বিনোদন ডেস্ক/বাংলাদেশ নিউজ টুডে
বাংলাদেশের সমকালীন সিনেমায় এক নামেই সমার্থক হয়ে উঠেছেন তিনি-শাকিব খান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি চলচ্চিত্রভিত্তিক শিল্পকলার ধ্বজাধারী হয়ে আছেন, দর্শকদের ভালোবাসা ও ব্যবসার দিক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অলঙ্ঘনীয় ব্যতিক্রম। তার ক্যারিয়ার যেন এক অন্তহীন অভিযাত্রা-লোকজ গাঁথার মতো, যেখানে নায়ক শুধু চরিত্র নয়, প্রতীক হয়ে ওঠেন সময় ও সংস্কৃতির।
ক্যারিয়ারের প্রাথমিক দিনগুলোতে অনেকটা নিঃশব্দে শুরু হলেও, শাকিব খান ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ঢালিউডের অনিবার্য কেন্দ্রবিন্দু। তার অভিনয়শৈলীতে যেমন রয়েছে জনপ্রিয় ধারার ছাপ, তেমনি আছে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়ার চমৎকার বুদ্ধিমত্তা। গ্ল্যামার, গণমানুষের সংলাপ আর রোমান্টিক অ্যাকশন, এই তিনের সংমিশ্রণেই গড়ে উঠেছে তার তারকা ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় শাকিব খান শুধু অভিনয়শিল্পী নয়, পরিণত হয়েছেন সিনেমা-শিল্পের এক প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বে।
তাই যখন শোনা যায়, নতুন এক সিনেমায় ফিরছেন শাকিব খান, তখন সেটি হয়ে ওঠে শুধু আরেকটি প্রজেক্ট নয়, একটি ঘোষিত প্রত্যাবর্তন, এক নতুন ভাষায় নিজের গল্প বলা।
এবারের গল্প ‘কালা জাহাঙ্গীর’ নন, ঢাকার এক রূপকথা
সম্প্রতি খ্যাতিমান নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছেন তার নতুন সিনেমার, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকছেন শাকিব খান। তবে সিনেমাটির নাম বা পোস্টার এখনো প্রকাশিত হয়নি। তার আগেই, এক অদ্ভুত গুজব বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, এটি বুঝি কুখ্যাত অপরাধী কালা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে নির্মিত কোনো বায়োপিক!
এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, “এটি কোনো সন্ত্রাসীর জীবনীচিত্র নয়। বরং নব্বইয়ের দশকের ঢাকাকে কেন্দ্র করে রচিত একটি মৌলিক গল্প। এই সিনেমায় আছে রোমান্স, অ্যাকশন, পরিবার, সমাজ, সবকিছুর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র, যেটি সকল শ্রেণির দর্শকের জন্য নির্মিত হচ্ছে।”
প্রযোজকের ভাষ্য আরও স্পষ্ট, “আমরা একটি নতুন গল্প বলতে চাই, যেখানে ঢাকার অলিগলি, গুলিস্তান থেকে গুলশান, পুরান ঢাকা থেকে উত্তরার সাম্প্রতিক উজ্জ্বলতা, সব মিলিয়ে ধরা পড়বে এক রঙিন শহরের স্মৃতি ও সংঘর্ষ।”
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন, যার গল্পে আছে নস্টালজিয়া ও রূঢ় বাস্তবতার সংমিশ্রণ। চিত্রনাট্য তৈরিতে মেজবাহর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। তাদের কলমে ‘৯০ দশকের ঢাকা’ হয়ে উঠছে এক জীবন্ত চরিত্র, যার বুকজুড়ে আছে প্রেম, প্রতারণা, বিদ্রোহ, স্বপ্ন আর হারানোর গ্লানি।
এই চলচ্চিত্রে শাকিব খান আসছেন এক নতুন রূপে, যেখানে নায়ক হতে পারে বস্তির ছেলে কিংবা উচ্চবিত্তের বিদ্রোহী সন্তান, হতে পারে প্রেমিক, হতে পারে পথের রাজার মতো এক অ্যাকশন নায়ক। তবে নির্মাতা ও প্রযোজক এটুকু নিশ্চিত করেছেন, চরিত্রটি হবে ভিন্নধর্মী, আবেগনির্ভর এবং সময়ের প্রতিধ্বনি।
এই গুজবের উৎপত্তি মূলত কয়েক বছর আগের এক ঘোষণায়। তখন নাট্যনির্মাতা হিসেবে আবু হায়াত মাহমুদ কালা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে একটি প্রজেক্টের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে শরিফুল রাজ ও মোশাররফ করিমের নামও আলোচনায় এসেছিল। সেই প্রসঙ্গ থেকেই অনেকেই নতুন এই চলচ্চিত্রকেও ‘কালা জাহাঙ্গীর’ ঘরানার ভাবতে শুরু করেন।
তবে এবারে নির্মাতা ও প্রযোজক পরিষ্কার করেছেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন গল্প, নতুন প্লট, নতুন আবহ।
পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে। তবে আগেই আগস্ট মাসেই প্রকাশ পাবে সিনেমার অফিসিয়াল নাম ও প্রথম পোস্টার।
সেই সঙ্গে পাওয়া যাবে আরও কিছু চমক, যেমন নায়িকা কে হচ্ছেন, কোন গান থাকছে, কে সুর করছেন, কোন লোকেশন, সবকিছু। তবে নির্মাতারা চাইছেন, দর্শক যেন আগেভাগে ভুল তথ্য বিশ্বাস না করেন।
এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নব্বইয়ের ঢাকা, যে শহর তখনও লালবাগের গলিতে রিকশা ঠেলে জীবন চালাত, নিউমার্কেটে হাতে রঙ করা পোস্টার লাগানো হতো, মিরপুরের অলিগলিতে তখনও মাটির ঘর ছিল আর সন্ধ্যার পর গুলশানে নীরবতা নেমে আসত।
সেই ঢাকা আর এখনকার আকাশচুম্বী শহরের ব্যবধানের মাঝখানে, নির্মাতা তুলে আনছেন এক মানবিক, প্রেমময়, উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনি।
এ যেন সিনেমা নয়, এক কবিতা হয়ে ওঠা শহর। আর সেই কবিতার প্রাণ হয়ে ধরা দেবেন শাকিব খান, নতুন রূপে, নতুন গল্পে, নতুন যাত্রায়।
এই ছবি কেবল শাকিব খানের প্রত্যাবর্তন নয়, এটি এক সময়ের, এক নগরের, এক প্রজন্মের গল্প বলা। যারা সেই নব্বইয়ের ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন, তারা পাবেন হারিয়ে যাওয়া সময়কে; যারা এখনো সেই সময় দেখেননি, তারা দেখবেন এক বিস্ময়ের শহরকে-রূপালী পর্দায়।
নামহীন এখন, কিন্তু প্রতীক্ষিত। অফিশিয়াল ঘোষণা আসুক, আমরা আবারও শহরটার প্রেমে পড়ি।