সারা দেশের জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান চালিয়েছে সরকার। এসব অভিযানে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া তেলের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার ডিজেল, ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল রয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মার্চ শেষে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল উদ্বৃত্ত আছে। এ ছাড়া ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল আরও দুটি জাহাজে ৫৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত তেল যুক্ত হচ্ছে এবং চীন, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও নতুন চালান আসবে। ফলে সরবরাহে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জেলার পক্ষ থেকে সংকটের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কেনাকাটা ও অবৈধ মজুতের কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও মার্চ মাসে সামগ্রিক সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ঈদকে সামনে রেখে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে প্রতি মাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয় এবং আগামী মাসের জন্য মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।