নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে পুরোনো অকার্যকর ব্যবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া দেশ ও জনতার জন্য ক্ষতিকর। তিনি উল্লেখ করেছেন, আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধন আনা যেতে পারে, তবে এ অজুহাতে প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করা ঠিক নয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যার ভিত্তিতে সরকার অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে:
১. প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই দুদককে সরাসরি মামলা বা এজাহার করার ক্ষমতা প্রদান।
২. কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে স্বাধীন বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব।
তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, “একটি মোবাইল ফোন চুরি হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি থানায় মামলা করতে পারে, পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু দেশের কোটি কোটি টাকা পাচার হলে সরাসরি মামলা করাটাই কেন সংবেদনশীল?” তিনি প্রাথমিক অনুসন্ধানের নামে বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখাকে অপরাধীকে সুবিধা দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সরাসরি মামলার ক্ষমতা বাতিল করলে রাষ্ট্র সাধারণ চোর ও বড় দুর্নীতিবাজদের জন্য ভিন্ন আইন প্রয়োগ করবে। দুদককে সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে হবে, যাতে তারা সরকারি দলের দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু স্বাধীন বাছাই কমিটির গঠন আটকে দিয়ে সরকার এমন একটি দুদক চাইছে, যার কমিশনাররা সরকারের দয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকবেন।
তাসনিম জারা অবিলম্বে সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দুদককে নখদন্তহীন করে রাখার পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া রাষ্ট্রীয় শুভবুদ্ধির পরিচায়ক হতে পারে না। আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে সংসদে সংশোধন আনা উচিত, কিন্তু এ অজুহাতে প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করা উচিত নয়।”