আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিদেশি শাখা কুদ্স ফোর্সের আন্ডারকাভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোহানি জানিয়েছেন, বাকেরি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং ইসরায়েল, সিরিয়া ও লেবাননের বিভিন্ন অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ইরান এখনো কোনও মন্তব্য করেনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুদ্স ফোর্স বিদেশে অপ্রচলিত যুদ্ধ, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং বিদেশি শিয়ানেতৃত্বাধীন মিলিশিয়াকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন প্রদান করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই বাহিনী গঠন করা হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে। আধুনিক তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার।
এছাড়া সোমবার তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমিও নিহত হয়েছেন। খাদেমি ২০২৫ সালে জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার আগে তিনি গার্ডস ইন্টেলিজেন্স প্রোটেকশন অর্গানাইজেশনের প্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইতোমধ্যে ইরানি শীর্ষ নেতা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বাকেরি ও খাদেমি। এর আগে তালিকায় ছিলেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব।
যুদ্ধের ৩৮তম দিনে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলায় ২৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। একই দিনে ইসরায়েলি-আমেরিকান হামলার জবাবে তেহরানও পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: এপি, রয়টার্স