নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসি ও আট পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় জামায়াত ইসলামের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম খান রোববার (৫ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পলাশ আহমেদ (৩৫), পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, এবং গোলজার রহমান (৩৪), জামায়াতের রুকন। তাদের বাড়ি কিশোরগারী ইউনিয়নের দীঘলকান্দি এলাকায়। পুলিশ শনিবার রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের ধরে আনে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার মূল দিন ২৫ মার্চ, রাত সাড়ে ৯টার সময় পলাশ আহমেদ নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২১ জন পলাশবাড়ী থানার ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন। তারা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধারের বিষয়ে থানার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানালে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
পলাশ আহমেদসহ তার অনুসারীরা ওসির শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে লাথি-মার ও কিলঘুসি মারে। তারা থানার সরকারি রেজিস্ট্রার পত্রও ছিঁড়ে ফেলে। বাধা দিলে কয়েকজন কনস্টেবলও মারধরের শিকার হন। পরে পলাশ আহমেদ থানা ঘেরাও করার হুমকি দিয়ে চলে যান। আহত পুলিশ সদস্যদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার রাতে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন মামলার বাদী হয়ে পলাশ আহমেদকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। রুহুল আমিন জানান, পুলিশের ওপর হামলার সময় তাকে আটকাতে গিয়ে তিনি নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ওসি সারোয়ার আলম বলেন, এই ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।