নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত এবং নিয়মিত আমদানির মধ্যেও একটি শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে-এই অভিযোগ উঠেছে বিশেষজ্ঞ ও সরকারি সূত্রে। তারা বলছেন, তেলের প্রকৃত কোনো অভাব নেই; বরং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’-এর মাধ্যমে বাজারকে কৌশলগতভাবে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।
সরকারি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১১ দিন (১,২৮,৯৩৯ মেট্রিক টন), অকটেন ৬–৭ দিন এবং পেট্রোল ৮–৯ দিনের। প্রতিদিন নতুন জাহাজে তেল বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সরবরাহ লাইনে যুক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার ১৭ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। তাছাড়া কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে বিকল্প পথে দ্রুত তেল আনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে লোহিত সাগর হয়ে সউদী আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি হচ্ছে। দেশের পেট্রোল ও অকটেনের প্রায় ৭০ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, তাই সরবরাহে কোনো বৈধ সমস্যা নেই।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী মহল ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এই সংকট তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাইরেও অন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মাঝে প্রতিনিয়ত তেল সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা সংকটের বিষয়টিকে সর্বক্ষণ আলোচনায় রাখছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিভিন্ন স্থানে আবাসিক এলাকা, গোয়ালঘর ও পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে হাজার হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট চক্র একই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সারাদিন বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে ড্রামে মজুত করছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত তেল নেওয়ার কারণে ট্যাঙ্কি উপচে পড়ার দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসন, র্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশব্যাপী কয়েক লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত ডিজেল ও অকটেন জব্দ হয়েছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গের জেলা, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গোপন গুদাম ও বসতবাড়ি থেকে হাজার হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকার ডেমরা, কেরানীগঞ্জ ও সাভারের শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ হয়েছে।
একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে-একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে তেল সরিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিরতা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, তেলের সঙ্কট নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টিই এর মূল লক্ষ্য।