নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বড় সিন্ডিকেটের পেছনে সরকারদলীয় সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রকৃত ক্যাশ না থাকলেও কাগজে-কলমে লাভ দেখানো হচ্ছে। এ সময় তিনি সমাজে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা (মেরিটোক্রেসি) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানস্থল কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট-এর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেখানে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি চলছে বলে শোনা যাচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের মেরুদণ্ড। এ খাতে বিপর্যয় ঘটলে বিদেশি ঋণ বা সহায়তায় দেশকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াকে তিনি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, কাগজে জ্বালানির মজুত দেখানো হলেও বাস্তবে সংকট রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক গড়ে তোলা, ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা আনা এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এবং একই ধরনের নীতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সভায় অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহী সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকট অব্যাহত থাকলে বোরো মৌসুমে উৎপাদনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।