নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টানা দুই দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। অধিক চাহিদা ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ভৈরবের জগন্নাথপুর ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, ডিজেল ছাড়া অন্য কোনো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ পাম্পে ঝুলছে ‘পেট্রোল নাই, অকটেন নাই’ লেখা সাইনবোর্ড। কোথাও আবার ‘ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল মিলবে না’—এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পাম্প সূত্রে জানা যায়, আগে যে পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগত, বর্তমানে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায়। বিশেষ করে প্রাইভেটকার মালিকদের ট্যাঙ্ক ফুল করে নেওয়ার প্রবণতা জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন পাম্প মালিকরা।
কমলপুর এলাকার ভাই ভাই পেট্রোল পাম্পের মালিক আব্দুল মান্নান জানান, গত দুই দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “রেশনিংয়ের মতো করে আমরা জ্বালানি পাচ্ছি, কিন্তু চাহিদা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।”
অন্যদিকে, পানাউল্লাহচর এলাকার মোল্লা ফিলিং স্টেশনেও শুক্রবার বিকেল থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাম্প কর্মচারীরা জানান, বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহ পেতে বিলম্ব হচ্ছে এবং আগামী ১৩ এপ্রিলের আগে জ্বালানি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
মিন্টু ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেন লিটন বলেন, “আগে সাড়ে চার হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি করতে কয়েক দিন লাগত, এখন কয়েক ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন শিডিউল না পাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ দাবি করেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তিনি বলেন, “ভোক্তাদের মধ্যে অযৌক্তিক আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মজুদের প্রবণতার কারণে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভৈরবের পাম্পগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ থাকলেও অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে জ্বালানি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, আর দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।