এবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছে মেক্সিকোতে। দেশটিতে বিচারবিভাগ সংস্কার সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত আইন পাসের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে দেশটির প্রশাসন এই আইন পাসের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইন অনুযায়ী বিচারকদের নিয়োগ হবে ভোটের মাধ্যমে। অর্থাৎ, সরাসরি জনতার ভোটে বিচারকেরা নিযুক্ত হবেন। এর ফল নিয়ে পক্ষে‑বিপক্ষে নানা মত আগে থেকেই চালু ছিল। কিন্তু বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বিলটি পাস হওয়ার পর থেকে এর বিরোধীরা বিক্ষোভ শুরু করে।
বিলটির পক্ষ অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে বিচারক নিয়োগ হলে, তাঁরা জনগণের প্রতি বেশি নিবেদিত থাকবেন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে। কিন্তু এর বিরোধীরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে গোটা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের মধ্যে যে ভারসাম্যের বিষয়টি রয়েছে, তা নষ্ট হবে। শুধু তাই নয়, এটি ক্ষমতাসীন মোরেনা পার্টিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিবিসি জানায়, এই বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পরিস্থিতি আগে থেকেই ছিল। যে ভবনে প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে সিনেটের ভোট হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ঢুকে পড়ে বিরোধীরা। পরে অন্য একটি ভনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাদর সমর্থিত আইনটির ওপর এই ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এই সিনেট অধিবেশন চলে শেষ রাত পর্যন্ত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভবনের বাইরে চলা বিক্ষোভের মুখে অধিবেশন স্থগিত করতে হয়। পরে বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বিলটি পাস হয়েছে মর্মে জানানো হয়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ওব্রাদর প্রশাসনের জন্য এটি একটি বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে ওব্রাদর তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করবেন।
নতুন আইন অনুযায়ী, বিচারক, মেজিস্ট্র্যাট, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদেরও নির্বাচনে দাঁড়াতে হবে। পাস হওয়া নতুন এ আইনের সমালোচনা করেছেন দেশটির বর্তমান প্রধান বিচারপতি নরমা পিনা পর্যন্ত। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে বিচারকদের ওপর জনগণকে খুশি করার মতো রায় দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে। এতে বিচারকের যে প্রধান কর্তব্য, নিরপেক্ষ থাকা–তা আর সম্ভব হবে না। গত রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্স‑এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মত দেন।