দখলদার ইসরাইলের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এবার দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন দখলদার সেনা হতাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানালেও ইসরাইলি গণমাধ্যম এখনও তা স্বীকার করেনি।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইল। এর জবাবে বৃহস্পতিবার পাল্টা হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।
ইসরাইলি গণমাধ্যমেও আজকের হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে ইসরাইলি গণমাধ্যমে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে দখলদার বাহিনীর সংঘর্ষে নতুন করে দুই ইসরাইলি সেনা নিহতের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বলা হয়েছে, উদিসা এবং মারুন আল-রাস শহরে হিজবুল্লাহর হামলায় গোলানি ব্রিগেডের দুই সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। হিজবুল্লাহর আজকের হামলায় বেশ কয়েকজন ইসরাইলি সেনা নিহত এবং গুরুতর আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানালেও ইসরাইলি গণমাধ্যম এখনও তা স্বীকার করেনি।
এর আগে বুধবার হিজবুল্লাহর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে আট দখলদার সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে তেল আবিব।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক বিবৃতির বরাতে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে আট ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। তারা লেবানন সীমান্ত অতিক্রম করে হিজবুল্লাহর অবস্থানে হামলা চালাতে গেলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, বুধবার দখলদার সেনাদের হত্যা করার পাশাপাশি হিজবুল্লা যোদ্ধারা ইসরাইলের তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করেছে।
হিজবুল্লাহর মুখপাত্র মোহাম্মদ আফিফ বলেন, এটি সংঘাতের শুরু মাত্র। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা দক্ষিণে প্রতিরোধের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে গেলো বছর ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এর জেরেই লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে।
এরমধ্যেই মঙ্গলবার দখলদার ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১৮০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
ইরান বলছে, হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান।
ইসরাইল যদি ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে তারা আরও নিষ্ঠুর হামলার সম্মুখীন হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।