দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালো- ব্রাজিল। সেলেসাওরা পাঁচবার বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলেও, এখনও অধরা ষষ্ঠ বা হেক্সা ট্রফি। তবে এবার, ফুটসালে রেকর্ড ছয়বার শিরোপা জিতে হেক্সা ট্রফি জয়ের স্বাদ নিলো ব্রাজিল। ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছে বিশ্ব ফুটবলের এই পরাশক্তি।
রোববার উজবেকিস্তানের তাসখন্দে ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। সেই সঙ্গে হেক্সা মিশনে এবার পুরোপুরি সফল হলো সেলেসাওরা। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন ফেরাও এবং সান্তোস। আর আর্জেন্টিনার গোলটি করেন মাটিয়াস রোহা।
হুমো অ্যারেনার ফাইনাল ম্যাচের ৫ মিনিট ৪৭তম সেকেন্ডে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ফেরাও। ১২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে ব্যবধান ২-০ করেন রাফা সান্তোস। ৩৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার রোহা একটি গোল পরিশোধ করেন। দুই অর্ধ মিলিয়ে ৪০ মিনিটের এই খেলায় এর কিছুক্ষণ পরেই শেষ বাঁশি বাজালে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।
শুধু দলীয় সাফল্যই নয়, টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সাফল্যে সেলেসাওরাও এগিয়ে। শীর্ষ তিন ব্যক্তিগত পুরস্কারের তিনটিই উঠেছেন তাদের হাতে। ফাইনালে দুর্দান্ত খেলে ব্রাজিলের গোলকিপার উইলিয়ান জিতেছেন সেরা গোলকিপারের পুরস্কার (গোল্ডেন গ্লাভ)। সর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন উইঙ্গার মার্সেল। আর সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল উঠেছে দিয়েগোর হাতে।
ফাইনালের আগে একই ভেন্যুতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও হয়। সেই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে তৃতীয় হয়েছে স্বাগতিক উজবেকিস্তান। ফুটসাল বিশ্বকাপের দশ আসরের মধ্যে ছয় বারই শিরোপা জিতলো ব্রাজিল। এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসাবে থাইল্যান্ড ২০১২ সালে শিরোপা জিতেছিলো।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে ফুটসাল বিশ্বকাপের প্রথম তিন আসরে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। আরেকবার তারা শিরোপা জেতে ২০০৮ সালে নিজেদের মাটিতে। স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুবার (২০০০ ও ২০০৪ সালে)। আর্জেন্টিনা (২০১৬) ও পর্তুগাল (২০২১) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার করে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ফিফার ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম শিরোপা ঘরে তুলেছিলো ব্রাজিল। ষষ্ঠ শিরোপার জন্য গত ২২ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকলেও এখন পর্যন্ত অধরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোয়ার্টারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। এই স্বপ্নপূরণ ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তা সম্ভবও নয়।