ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই বংশের সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় যৌথ অভিযানে ৭ জন আটক করা হয়েছে। এসময় বিপুল পরিমাণের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আজ ১ নভেম্বর সকালে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৩১ অক্টোবর রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষটি ঘটে উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জলের নেতৃত্বাধীন কর্তা বাড়ি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শাফায়েত উল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন সরকার বাড়ির মধ্যে। এসময় কাইয়ুম মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। আহত হোন অর্ধশতাধিক। নিহত কাইয়ুম মিয়া মৌটুপি এলাকার রমিজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বর্তমান চেয়ারম্যান শাফায়েত উল্লাহ গ্রুপের মো. রহমত উল্লাহ (৬৫), ও চাঁন মিয়া (৫৫) এবং সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল গ্রুপের বাতেন মিয়া (৫৩), রফিকুল ইসলাম (৬০), নজরুল ইসলাম (৫০), শরীফুল ইসলাম (২১), পাবেল (২৩)কে আটক করেন। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণের দেশীয় অস্ত্র।
জানা গেছে, মৌটুপি গ্রামে সরকার বাড়ির বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাফায়েত উল্লাহ ও কর্তা বাড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং বিএনপি নেতা মো. তোফাজ্জল হক গ্রুপের মধ্য দীর্ঘ ৫৪ বছর যাবত আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রায় এক ডজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ঈদের পর দিন তোফাজ্জল হকের গোষ্ঠীর নাদিম কর্তা সরকার বাড়ির লোকজনের হাতে খুন হয়। অপরদিকে এই ঘটনার পর ১৩ সেপ্টেম্বর কর্তা বাড়ির লোকজনের হাতে সরকার বাড়ির ইকবাল খুন হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কয়েকশ বাড়ি ঘর ভাঙচুর লুটপাট হয়েছে। দুটি খুনের ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০০ আসামি করে পাল্টাপাল্টি মামলা হয় থানায়। এরই মধ্য কর্তা বাড়ির নাদিম হত্যা মামলার আসামীরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়িতে চলে আসলেও সরকার বাড়ির ইকবাল হত্যা মামলার আসামীরা জামিন না নিয়ে বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ১ জন নিহতসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ হাসমত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এসময় যৌথ অভিযানে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নিহত কাইয়ুম মিয়ার মরদেহ সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। যৌথ অভিযান ও পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।