রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ও আহত সংখ্যা অগনিত , বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রয়োজন রক্তের, সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান , আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। হাসপাতালে আহাজারি করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।

কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বহু হতাহতের শঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তারা। এরপরই আগুনে জ্বলে ওঠে বিমানটি এবং মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।
শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ছুটোছুটি শুরু করে, জনমনে সৃষ্টি হয় তীব্র শোক ও উদ্বেগের।
বিমান বিধ্বস্তের পর থেকে আহতদের জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেলসহ হাসপাতালগুলোতে নেয়া হচ্ছে। সেখানে একের পর এক আহতদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে। কারও কারও অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অনেকের শরীর ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। শুধু অ্যাম্বুলেন্স নয়, অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা অটোরিকশাতে করেও হাসপাতালে যাচ্ছেন। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। হাসপাতালে আহাজারি করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।
এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে নেয়া হচ্ছে। সেখানে ৬০ জনের মতো রোগী ভর্তি করা হয়েছে। ঠিক একই অবস্থা ঢাকা মেডিকেল বা অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও।
ঢাকা মেডিকেলেও বেশ তোড়জোড় করে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে যাথাসম্ভব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। উত্তরা ধুনিক হাসপাতালেও একের পর এক রোগী আনা হচ্ছে, সেখানে চিকিৎসা দিতে অন্য হাসপাতাল থেকেও চিকিৎসকরা এসেছেন বলে জানা গেছে।

বেলা ১টা নাগাদ বিমানটি আছড়ে পড়ে। এটি বিমান বাহিনীর F-7 BGI (701) মডেলের বলে জানা গেছে। বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথে প্রশিক্ষণ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পর আশপাশের এলাকার মানুষ ছুটে যায়। বিমানটিতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই বিমানে আর কেউ ছিলেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিমান বিধ্বস্তের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনায় বিমানসেনা ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীসহ অন্যান্যদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। জাতির জন্য এটি একটি গভীর বেদনার ক্ষণ।”
তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, “সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে কয়েকজন বেসমারিক ব্যক্তিও আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে। অন্যদের মতো ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘উত্তরার দিয়াবাড়ির এলাকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখজনক, এমন ঘটনা মর্মাহত হয়েছি। সবার জন্য দোয়া চাই। সবার জন্য দোয়া রইল।’
সর্বশেষ জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দুজন। এ ছাড়া আরও বড় হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লিখেছেন, ‘মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের জন্য প্রার্থনা। ধারণা হচ্ছে, ব্যাপক হতাহত হতে পারে।’
এমন ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভিডিও। সেখানে কাউকে দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে। কারও শরীর পুড়ে গেছে। আতঙ্কিত ঘটনা নিয়ে শোক প্রকাশ করে গায়িকা আঁখি আলমগীর লিখেছেন,
‘মাইলস্টোন কলেজ দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের ওপর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় আমি আতঙ্কিত। আহা, কি অসহায় আমরা। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুন, সহায় হোন।’
এই দুর্ঘটনা গোটা জাতির হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। নিরাপদ আকাশসীমা ও জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের যথোপযুক্ত নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে