নিজস্ব প্রতিনিধি :
একটি মমতাহীন ঘটনার সাক্ষী হলো বগুড়ার শিবগঞ্জ। সেখানে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এক বৃদ্ধা শাশুড়িকে রাস্তায় ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে গেছেন তাঁরই পুত্রবধূ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বৃদ্ধা এসেছিলেন স্বজনদের সঙ্গে থাকার আশায়, শেষে ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দর এলাকার এমএইচ স্কুলের সামনে রাস্তার পাশে স্থানীয়রা দেখতে পান এক বৃদ্ধাকে বসে থাকতে। অসহায়, অশ্রুসিক্ত চেহারায় তিনি কারও অপেক্ষায় যেন চেয়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে।
জানা যায়, ওই নারীর নাম জহুরা বেগম (৬০)। তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দা গ্রামের জুলহাসের স্ত্রী। তার ছেলের নাম জয়নাল এবং পুত্রবধূর নাম মিনারা বেগম, যিনি রংপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, মিনারা বেগমই কৌশলে জহুরাকে এনে ফেলে রেখে গেছেন মোকামতলায়।
জহুরা বেগম ঠিকঠাক করে কথা বলতে পারছেন না। অস্পষ্ট ভাষায় শুধু এতটুকু বলতে পেরেছেন “পুত্রবধূ আমায় ফেলে গেছে… আমি কোথায় যাব?” বারবার ছেলের নাম জয়নাল বলতে শোনা যায় তাঁকে। চোখে অশ্রু, কণ্ঠে অসহায়ত্ব একজন মা, একজন শাশুড়ির এমন পরিণতি উপস্থিত সকলকেই ব্যথিত করে তোলে।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, “বৃদ্ধা মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায়, উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টিএমএসএস বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়েছে।”
এই ঘটনা আমাদের পরিবার-সমাজব্যবস্থার করুণ চিত্রটি আবারও সামনে এনে দেয়। যেখানে একজন পুত্রবধূ নিজের শাশুড়িকে পথে ফেলে রেখে চলে যেতে পারেন, সেখানে ভালোবাসা, দায়িত্ব, সম্পর্ক, সবকিছুই যেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
মানবতা আজ কোথায় দাঁড়িয়ে?
একজন বৃদ্ধা মায়ের কাঁপা কাঁপা হাত আর অন্ধকার চোখ যেন সেই প্রশ্নই রেখে যায় সমাজের বুকে।