মোঃ আল-আমিন হোসেন,
নিজস্ব প্রতিবেদ
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদ স্বেচ্ছাসেবক দল টঙ্গী পূর্ব থানার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা সিরাজুল ইসলাম সাথি। স্বেচ্ছাসেবক দল বিগত সময়ে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জনপ্রিয় এই নেতা। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সফল সদস্য সচিব ছিলেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ছাত্র জীবনে রাজনীতিতে আসেন সিরাজুল ইসলাম সাথী। ২০০২ সালে অবিভক্ত টঙ্গী থানাধীন ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। গাজীপুর জেলা থাকা অবস্থায় বৃহত্তর টঙ্গী থানা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রার্থী ছিলেন, তবে এসএসসি সেশন ২০০০ সালের আগে থাকায় সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সরে দাঁড়ান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সংগঠনের রাজনীতি শুরু করেন, পরবর্তীতে গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান।
তিনি তাঁর সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছিলেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখ সারীতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। পাশাপাশি দলের দুঃসময়ে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ হামলা-মামলায় শিকারও হয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং আওয়ামী পুলিশ লীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার এই জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপর একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই পক্ষটি ষড়যন্ত্র করে সিরাজুল ইসলাম সাথীকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য দলীয় হাই কমান্ড কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে বহিষ্কার করে। তাকে বহিষ্কার করার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নেতাকর্মীরা তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব দিয়ে শক্তিশালী সংগঠনে রূপ দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম সাথী। যার কারণে টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন ত্যাগী ও সফল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের নিয়ে সকল কর্মসূচি পালন করেছেন। অনেক মামলার আসামী হয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এবং যুগ পেরিয়েও নেতা-কর্মীদের নিয়ে আদালতের বারান্দায় সময় কাটিয়েছেন। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হাতে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। দুঃসময়ের নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে নিজেদের বাঁচাতে আড়ালে আবডালে থেকেছেন। অনেকে আবার সরকারি দলের সাথে আঁতাত করে চলেছেন। কিন্তু সেই সময়েও সাহসী সৈনিক হয়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং বর্তমানেও রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম সাথি। দেশে গণতন্ত্র ও বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে এ ধরনের ত্যাগী নেতাই দরকার বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন আছেন এবং থাকবেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, দলের দুরদিনে দল ও দলের কর্মীদেরকে দীর্ঘ বছর আগলে রাখা পরীক্ষিত নেতাদের রাজনৈতিক বলির শিকার বানিয়ে (তথ্য অনুসন্ধান না করে) দল থেকে বহিষ্কার চিঠি ইস্যু করায় গাজীপুরে বিএনপির তৃণমূল পর্যায় নেতাকর্মীরা হতাশ।