বিনোদন ডেস্ক:
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড দাপিয়ে বেড়ানো কিংবদন্তি অভিনেতা শাহরুখ খান অবশেষে অর্জন করতে চলেছেন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি-জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জওয়ান’ ছবিতে অনন্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিংকভিলা।
এই সংবাদমাধ্যমটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে জানিয়েছে, পুরস্কারের তালিকায় শাহরুখ খানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে এবং ১ আগস্ট, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
২০২৩ সালের আলোড়ন সৃষ্টিকারী অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘জওয়ান’-এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে শাহরুখ খান দেখিয়েছেন অভিনয়ের এক নতুন মাত্রা। সিনেমাটিতে তিনি একাধারে একজন পিতার প্রতিশোধস্পৃহা ও পুত্রের প্রতিবাদী আদর্শ-দুটি বিপরীত চরিত্রে মূর্ত হয়ে উঠেছিলেন।
তার সংলাপ, শরীরী ভাষা, সংযত আবেগ ও নাটকীয় দৃশ্যায়নে দর্শক যেমন অভিভূত হয়েছে, তেমনি সমালোচক মহলও একবাক্যে স্বীকার করেছেন, “এটাই শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স।”
১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেকের পর শাহরুখ খান হয়ে উঠেছেন ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেতাদের একজন।
তার পরবর্তী পথচলায় একের পর এক স্মরণীয় ছবি, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘চাক দে ইন্ডিয়া’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি শুধু রোমান্স নয়, পিতৃত্ব, দেশপ্রেম, প্রতিবাদ, রাজনৈতিক বোধ, বিভিন্ন মাত্রায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এতদিন অধরাই ছিল এই কিংবদন্তির জন্য।
অবশেষে ‘জওয়ান’ তার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে—, এমন খবরে উচ্ছ্বসিত তার অগণিত ভক্ত।
একটি নয়, ২০২৩ সালে শাহরুখ খান বলিউডে ফিরে আসেন তিন-তিনটি সুপারহিট ছবির মাধ্যমে, ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডাঙ্কি’।
এই তিন ছবির সম্মিলিত বক্স অফিস আয় ভারতে ১৩০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫০০ কোটিরও বেশি। শুধু ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহেই ৭ কোটিরও বেশি দর্শক উপভোগ করেন এসব ছবি।
এ ধরনের নজিরবিহীন সাফল্য বলিউডে খুব কমই দেখা গেছে, এক বছরে একক কোনো তারকার তিনটি ব্লকবাস্টার ছবি এবং একইসঙ্গে জাতীয় পুরস্কারের স্বীকৃতি।
বর্তমানে শাহরুখ খান ব্যস্ত রয়েছেন তার পরবর্তী প্রজেক্ট ‘কিং’ এর শুটিংয়ে, যা মুক্তি পাবে ২০২৬ সালে। এই ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন শাহরুখ কন্যা সুহানা খান। অর্থাৎ, বলিউডে শুরু হতে চলেছে নতুন এক রাজপরিবারের অধ্যায়, যেখানে পিতা ও কন্যা একসঙ্গে ভাগ করে নেবেন রূপালি পর্দার আলো।
শাহরুখ খান বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে ভারতীয় সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করছেন। পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, আইফা, পদ্মশ্রী, ও বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তার ক্যারিয়ারে ছিল এক অনুপস্থিত তারকা। আজ যখন সেই তারকা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আকাশে, তখন এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এক ঐতিহাসিক ও প্রজন্মস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্দায় প্রেম, প্রতিবাদ, প্রতিশোধ ও পিতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠা শাহরুখ খানের এই অর্জন শুধু তার ক্যারিয়ারের মুকুটে নতুন পালক নয়, এটি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।
বলিউডের বাদশাহ এবার সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় মুকুট পরতে চলেছেন। এটি শুধুই এক পুরস্কার নয়, এক প্রজন্মের আবেগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।