প্রতিবেদক : মাইলস্টোন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী
আজ আর চুপ করে থাকা চলে না।
আজ মাইলস্টোন স্কুল নিয়ে না বললে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি আজ আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়,
এটি দাঁড়িয়ে আছে শিশুদের কান্না, নিঃশেষিত প্রাণ আর বিচারহীনতার এক বেদনাবিধুর স্তম্ভ হয়ে।
যে প্রতিষ্ঠানের উপর আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব ছিল,
সেখানে কি শিখিয়েছে তারা?
সততা নয়, প্রতিবাদ নয়, ন্যায় নয়,
শিখিয়েছে কেবল নির্লজ্জতা, নিস্পৃহতা, এবং নিঃস্ব হৃদয়ের ব্যবসা কেমন করে চালাতে হয়।
নিজেদের স্কুলের অসংখ্য নিষ্পাপ শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো, আর তারা কী করলো? একটি বিবৃতিও দিল না, এক ফোঁটা দুঃখও দেখালো না, একজন পিতামাতার হাতও ধরলো না,শুধু গা বাঁচিয়ে ব্যবসা চালিয়ে গেল।
এটা কেবল অপরাধ নয়, এটা অমানবিকতার সীমা ছাড়ানো এক নির্লজ্জ উদাহরণ। এদের জন্য কোনো করুণা নেই। এদের হৃদয় কাঁচ নয়, পাথরও নয়, এটা যেন লাভের অংক কষা এক শীতল ক্যালকুলেটর।
এই প্রতিষ্ঠান আজ সমাজের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যর্থতা।
এদের থেকে কোনোদিনও একজন প্রকৃত মানবিক মানুষ জন্ম নেবে না।
শুধু ব্যবসায়ী মানসিকতা, আত্মকেন্দ্রিকতা আর ভয়ানক মেরুদণ্ডহীনতার শিক্ষা ছড়াবে।
মাইলস্টোনের মতো স্কুলে সন্তান পাঠানো মানে কী? একটি নীরব হত্যাকাণ্ডে সম্মতি জানানো। একটি অমানবিক ব্যবস্থাকে নিজের হাতে তেল-মালিশ করা। এটা ভুল নয়, এটা পাপ।
এই স্কুলের শিক্ষকরা যদি আজো তাদের দায়িত্বকে ভুলে, এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে মুখে তালা মেরে থাকেন, তাদের আর শিক্ষক বলা যায় না। তারা কেবল বেতনভোগী, বিবেকহীন চাকুরে। সমাজে তাদের জায়গা নেই, শ্রদ্ধার জায়গা তো নয়ই।
এই মুহূর্তে যারা চুপ আছেন, আপনাদেরও মনে রাখা উচিত, চুপ থাকার মানে পক্ষ নেওয়া। এটা নির্যাতকের পাশে দাঁড়ানো।
এখনই সময়, বয়কট করুন মাইলস্টোন স্কুলকে। পাল্টান সিদ্ধান্ত, বাঁচান ভবিষ্যৎ। আপনার সন্তানের জন্য নিরাপদ, মানবিক এবং দায়িত্ববান প্রতিষ্ঠান খুঁজুন।
কারণ, মাইলস্টোনে পাঠানো প্রতিটি শিশু ঝুঁকির মুখে। আর আপনি যদি আজ চুপ থাকেন, আগামীকাল এই অপরাধে আপনারও নাম লেখা থাকবে।