মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার
আজ (১৪ নভেম্বর) সারা দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ০১ থেকে ১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করলেন। এক থেকে বার তম শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষকেরা চাকরির জন্য বিভিন্ন সময় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চাকরির জন্য আন্দোলন করে আসছে। তারা বিগত সরকারের আমলেও বেশ কয়েকবার চাকরির জন্য আন্দোলন করেছিলেন। সরকার পতনের পরও বিভিন্ন সময় তারা কয়েকবার আন্দোলন করেছে। কখনো প্রেস ক্লাবের সামনে, কখনো শাহবাগ চত্বরে, কখনো এনটিআরসিএ এর সামনে। দিনরাত রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। চাকরি প্রত্যাশীত নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করা হলেও তারা বারবারই প্রতারিত হয়েছেন। জাল সনদে চাকরি হলেও বৈধ সনদ নিয়েও তাদের এখনো চাকরির নিয়োগ থেকে বঞ্চিত। মিথ্যা আশ্বাসে বারবার জাতির শিক্ষিত মেধাবী একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রাস্ট্রের কাছে ঠকেছে। কিন্তু এখনো তারা আশা ছাড়েনি। তারা বিশ্বাস করেন সরকারের সদিচ্ছার ফলে তাদের ন্যায্য দাবী আদায় সম্ভব।
এনটিআরসিএ এর অবৈধ নিয়ম নীতি, সার্টিফিকেট জাল জালিয়াতি, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, ৩৫+ বয়সের অজুহাত ও আদালতের রায় অমান্য করে এনটিআরসিএ নিয়োগ দিয়েছে জাল সনদের মাধ্যমে। চাকরির সনদ অর্জনের পরও বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়ে আজও বেকারত্বের ঘানি মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৯ নভেম্বর সকাল নয়টা থেকে সারা দেশ থেকে আসা নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক নিবন্ধিত শিক্ষকেরা চাকরির প্রত্যাশায় অনশন অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং দাবি মেনে না নেওয়া হলে যমুনা অভিমুখে যাওয়ার ঘোষণা করেন। নিয়োগ বঞ্চিত বিভিন্ন নিবন্ধিত সংগঠনের যৌথ আন্দোলনে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে চাকরি জন্য আন্দোলন করছিলেন। সেই সাথে তারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো ইউনুসের সাথে স্বাক্ষাৎ এবং তার হস্তক্ষেপ কামণা করেন।
তারা ০৯ নভেম্বর সকাল থেকে টানা ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে গেলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার আশঙ্কায় আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেন।
বৈষম্যের শিকার হওয়া শিক্ষিত নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক নিবন্ধিত শিক্ষকদের এই মানবিক দিক সত্যিই বিরল ইতিহাস হয়ে থাকবে। নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক নিবন্ধিত যৌথ সংগঠন আগামী ১৮ নভেম্বর আবার পুনরায় নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।