এস এম আলমগীর হুসাইন স্টাফ রিপোর্টার
শিবচর মাদারিপুর :
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া মৃধাকান্দিতে ছয় বছর আগে শুরু হয়েছিল এক পরিবারের স্বপ্ন। ইতালি প্রবাসী শওকত হোসেন দেড় বিঘা জমিতে ছোট জাতের কমলার বাগান গড়েন। শুরুটা ছিল কষ্টের। প্রায় ১০০টি চারা লাগানো হলেও নানা ঝামেলায় ৪০টি মারা যায়। বেঁচে থাকা ৬০টি গাছও প্রথমে তেমন ফল দিচ্ছিল না। এতে শওকত হোসেন নিরুৎসাহ হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি বদলায় ২০২১ সালের শেষ দিকে, যখন সৌদি প্রবাসী ছেলে রাসেল হোসেন বাগানের দায়িত্ব নেন। ইন্টারনেটে কৃষি বিষয়ক পড়াশোনা, ভিডিও দেখে শেখা পরিচর্যা এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ—সব মিলিয়ে তিনি বাগানের যত্নে নতুন পদ্ধতি চালু করেন। ধীরে ধীরে পূর্বের ৬০টি গাছই হয়ে ওঠে তার আশা-ভরসার কেন্দ্র।
২০২৪ সালে বাগানজুড়ে ধরে প্রচুর ফুল, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছে ঝুলে রঙিন কমলা। স্বাদে আর ঘ্রাণে দেশি তাজাভাব—যা বাজারের অধিকাংশ বিদেশি কমলাকে ছাপিয়ে যায়। এবছর আবহাওয়ার কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও মিষ্টিভাব আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাজারে ২৮০–৩০০ টাকায় সহজেই বিক্রি হচ্ছে তার উৎপাদিত কমলা। অনেকেই সরাসরি বাগান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের চোখে এই বাগান এখন শুধু ফলের উৎস নয়—একটি অনুপ্রেরণার জায়গা। প্রতিদিন মানুষ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন, দেখে যাচ্ছেন ফরমালিনমুক্ত তাজা কমলা।
রাসেল বলেন, “শুরুতে যখন একের পর এক গাছ মরছিল, মনে হয়েছিল আর হয়তো সম্ভব না। কিন্তু হাল ছাড়িনি। যত্ন দিলে গাছ প্রতিদান দিতেই হয়—এটা এখন নিজের চোখে দেখছি।” কমলার পাশাপাশি তিনি মাল্টা, পেয়ারা ও আরও কয়েকটি নতুন জাতের ফলের পরীক্ষামূলক চাষ করছেন। সামান্য সহায়তা পেলে তিনি বাগান আরও বড় করার পরিকল্পনা করেছেন।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছি। সামনে উন্নতমানের চারা সরবরাহ ও কৃষি ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়াওএ আরও সহজ করার উদ্যোগ চলছে।”
দত্তপাড়ার এই কমলা বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য বাস্তব উদাহরণ—অধ্যবসায় আর সঠিক পরিচর্যা থাকলে গ্রামের মাটিও সোনার ফল দিতে পারে। রাসেলের সাফল্য সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।