নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামী মঙ্গলবার একই দিনে দুটি শপথ গ্রহণ করবেন। প্রথমে তারা শপথ নেবেন সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সকালেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হবে। একইদিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। শপথ নেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ফরমে সই করবেন, যা আসনওয়ারি প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের জন্যও নির্ধারিত ফরম অনুসরণ করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিএনপি কিছু প্রস্তাবে ভিন্নমত ব্যক্ত করেছে, তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অধিকাংশ প্রস্তাবে একমত। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনার মাধ্যমে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নের তিনটি স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি স্তর সম্পন্ন হয়েছে-আইনি ভিত্তি স্থাপন ও গণভোট। তৃতীয় স্তরে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মধ্যে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নির্দিষ্ট নিয়োগে বৃদ্ধি, আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা, এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পদ্ধতি সরাসরি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা। বিএনপি কিছু প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানিয়েছে, যা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।