মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংকট নতুন মোড় নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সরকার, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংকটের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট বিশ্বনেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানকে ‘স্বল্পকালীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা হারাবে না, ততদিন এই সংঘাত শেষ হবে না।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সম্ভাব্য তিনটি সমাপ্তির দৃশ্যপট তুলে ধরেছে।
প্রথম ও সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপটে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের সামরিক শক্তি ও প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য পূরণে অভিযান চালিয়ে যাবে। এতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো অক্ষত থাকতে পারে। সামরিক অভিযান শেষ হলেও পারমাণবিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
দ্বিতীয় দৃশ্যপটে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক লক্ষ্য পূরণের আগেই বিজয় ঘোষণা করে, তাহলে ইরান পুনরায় সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকতে পারে।
তৃতীয় দৃশ্যপটে ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রেখে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করা এবং বিরোধীদের আন্দোলনে উৎসাহিত করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, বাইরের সামরিক চাপেই কোনো দেশের শাসনব্যবস্থার দ্রুত পতন সাধারণত ঘটে না—যদি না অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির যে কোনো মোড় মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।