আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় ইরানের ছোঁড়া একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সংঘটিত এই হামলায় সাততলা বিশিষ্ট ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে, সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও ফার্স্ট পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। প্রাথমিকভাবে চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও জরুরি উদ্ধার সংস্থার তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি ভবনে আঘাত হানায় এর কাঠামোর একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। ফলে ভবনের বাসিন্দারা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েন এবং অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন ঢেউ শনাক্ত করার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, এটি ছিল সরাসরি আঘাত হানা একটি ক্ষেপণাস্ত্র।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সর্বশেষ হামলায় ১০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে একটি ছিল ফ্র্যাগমেন্টিং ওয়ারহেড সংযুক্ত-যা বিস্ফোরণের পর বহু খণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। এই হামলাগুলো তিন দফায় চালানো হয়, যার ফলে মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
এদিকে, ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।