হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
*দায়সারা কাজ ও নিম্নমানের সামগ্রী
*ঘুষ, কমিশন, বাণিজ্য- অনিয়ম-দূর্নীতি
*তদারকি ও স্বচ্ছতার অভাব
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আদি যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষে, মাস না পেরোতেই বিভিন্ন জায়গায় ধ্বসে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দায় সারা আর নিম্নমানের পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত গাছের বললি/ খুঁটি, বাঁশ এবং নামমাত্র মাটি দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গত বুধবার(১৫ এপ্রিল) সরে জমিনে যেয়ে দেখা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কালীগঞ্জে আদি যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের একাধিক জায়গায় ফাটল ও ধসে পড়েছে। উন্নয়ন বোর্ডের সিডিউল অনুযায়ী ৬টি প্যাকেজে ৮০০ মিটার প্রকল্পে ১৩ সেন্টিমিটার ব্যাসের শক্ত খুঁটি/বললি এবং ৮ সেন্টিমিটারের বাঁশ ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে সেটা হয়নি। ০,৩০ মিটার পর পর বাঁশ দেওয়ার নিয়মকে তোয়াক্কা না করে ঠিকাদাররা নিজের ইচ্ছামতন কাজ করেছেন। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রণিত হোসেন ও ইমরানের ঘুষ ,কমিশন ,বাণিজ্যের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো দায়সারা ভাবে কাজ করার পরপরই ধস নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২ নং বাঁশবাড়িয়া সেকশনের অধীনে আদি যমুনা নদী সংরক্ষণ ও তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ৮,শ মিটারের ৬ টি প্যাকেজে ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। উক্ত প্রকল্পে সাতক্ষীরার আলিপুরের আব্দুস সালাম ২৫ লক্ষ এবং অপর ঠিকাদার আবু জাহিদ পলাশ ১৫ লক্ষ টাকায় প্রকল্প হাতে পেয়ে কাজ শুরু করলেও ঘুষ, কমিশন, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। যে কারণে দায়সারা তদারকির অভাবে কাজ শেষ হওয়ার ১ এক মাসের মধ্যেই যমুনা তীরের ভাঙ্গনে ধসে পড়েছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুস সালাম এবং জাহিদুর রহমান পলাশের নিকট জানতে চাইলে তারা যথা নিয়মে কাজ করেছেন বলে জানান। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রমিত হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি তার এক স্থানীয় কর্মচারীকে দিয়ে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে পত্রিকায় খবর না ছাপানোর জন্য অনুরোধে ব্যর্থ হয়ে বলেন যদি ধসে পড়ে তাহলে সেটা আবার ঠিক, মেরামত করে দেওয়া হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের নিকট জানতে চাইলে প্রথমে প্রকল্প সম্বন্ধে কিছু জানেন না বলে জানান । পরে বলেন জরুরী আপদকালীন বরাদ্দ তাই তিনি কোথায় ত্রুটি তার ছবি উঠিয়ে পাঠাতে বলেন এবং অফিসে এসে কথা বলতে বলেন। প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ ,যথা নিয়মে কাজ না হওয়া প্রসঙ্গে তদারকি, দায়সারা,ঘুষ ,কমিশন বাণিজ্য প্রসঙ্গে জানতে চাওয়ায় তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এই ভাবেই চলছে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পে লুটপাট ও অনিয়ম। এলাকাবাসীর অভিযোগ নির্মাণ কাজ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তেমন একটা তদারকি করতে দেখা যায়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নব কুমারের দিয়েই দায়িত্ব পালন করানো হয়েছে। এই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মর্জি মাফিক দ্রুত কাজ শেষ করেছে। কাজের গুণগতমান যাচাই না করেই দায় সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ। প্রবীণ বাসিন্দা আফসার আলী মতিয়ার রহমান সুরুজ আলী বেলায়েত সহ একাধিক ব্যক্তি জানান আমরা সারা জীবন আদি যমুনা ভাঙ্গনের সঙ্গে লড়াই করছি। ভেবেছিলাম পাকা রাস্তা হয়েছে শক্ত বাদ হবে শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। কিন্তু সরকারি মাল দরিয়ায় ফেল এমন অবস্থায় জনগণের রক্ত ঘামানো ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন, ঘুষ বাণিজ্যে পাউবোর কর্মকর্তাদের পকেট ভারী হলেও ধস নেমেছে যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে। এই বাঁধ আমাদের কোন কাজে আসবে না। পাড়ে বসবাসকারী অন্যান্যরা বলেন আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির চাপ বাড়লেই ঘর বাড়ি বাঁধ ভেঙে রাস্তা ধসে পড়বে। জনগণের দেওয়া করের অর্থ সরকারি কোষাগর থেকে বরাদ্দ প্রকল্পে লুটপাট ঠেকাতে একটি শক্ত মনিটরিং টিম এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে উপজেলাবাসী।