জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি যে ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন চ্যানেল আইয়ের আলোচিত অনুষ্ঠান ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ফাহমিদা হক।
জিল্লুর রহমান বর্তমানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আর ফাহমিদা হক ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।
পাশাপাশি তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এই মনোনয়ন তালিকায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে সাবেক সংসদ সদস্য, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেত্রীরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অনেকে দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও কয়েকটি নাম নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে এমন দুজনকে নিয়ে, যাদের অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদের একজন হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর), অন্যজন হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার আগে কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কেউ মনোনয়ন পাননি। বরং উল্লিখিত দুটি নামসহ কয়েকটি নাম চমক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর মতে, ফাহমিদা হক আগে খুব বেশি সক্রিয় রাজনীতিতে দৃশ্যমান ছিলেন না। তাকে অনেকে মূলত সাংবাদিক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী হিসেবেই চিনতেন। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফাহমিদা বলেন, তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি দাবি করেন, নিজের পরিচয়ের ক্ষেত্রে তিনি বাবার নামই ব্যবহার করেছেন।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যিনি অতীতে দুবার সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ বেশ কয়েকজন সাবেক এমপিও আবার সংসদে যাচ্ছেন। অন্যান্য মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যও রয়েছেন। কেউ সাবেক মন্ত্রী বা এমপির আত্মীয়, আবার কেউ প্রয়াত বিএনপি নেতাদের পরিবার থেকে এসেছেন।
এছাড়া যারা সাম্প্রতিক নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে সংরক্ষিত আসনে আনা হয়েছে।
নতুন মুখ হিসেবে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেত্রীরা। সামগ্রিকভাবে তালিকাটি অভিজ্ঞ ও নতুন—দুই ধরনের প্রার্থীর সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বলে হাইকমান্ড থেকে জানা গেছে।