*”অদর্শনের মহাকাব্য”**
৷৷৷৷৷ এ এস এ সোহেল ৷৷৷৷৷
কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যাবে চেনা পথ,
দূরে সরে যাবে আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষিত রথ।
তোমার প্রদীপ আর আমার ছায়ার মাঝে,
বিচ্ছেদের করুণ সুর একলা হৃদয়ে বাজে।
অনেক আকাশ পার হয়ে যাবে একা একা,
অনেকদিন আমাদের হবে না কোনো দেখা।
তারপর একদিন হয়তো কোনো এক ধূসর ক্ষণে,
তোমার স্মৃতি ভেসে উঠবে মোর শ্রান্ত মনে।
আকস্মিক দেখা হবে জনাকীর্ণ কোনো মোড়ে,
স্তব্ধতা নেমে আসবে এই চরাচর জুড়ে।
আমি চেয়ে রবো তোমার ক্লান্ত চোখের পানে,
অব্যক্ত কথা সব লুকানো থাকবে গানে।
তুমি মৃদু স্বরে বলবে, ‘কতকাল দেখিনি তোমায়’,
আমি বলব, ‘অদর্শন বিষাদ ছড়ায়’।
এভাবেই শুরু হবে আবার এক দীর্ঘ প্রহর,
হাহাকারে ভরে যাবে আমাদের হিয়া-শহর।
দিনের পরে দিন যাবে গোধূলি বেলায়,
সময়ের স্রোত শুধু আমাদের নিয়ে খেলায়।
বৎসরের পর বৎসর হবে বিগত,
বুকের ভেতর বাড়বে এক অলিখিত ক্ষত।
ঋতু বদলাবে আর ঝরবে শ্রাবণের ধারা,
আকাশের বুকে জ্বলবে হাজারো মৃত তারা।
তোমার আঙিনায় ফুটবে হয়তো নতুন ফুল,
আমি গুনে যাবো আমার যত ভ্রান্তি আর ভুল।
স্মৃতির পাতায় ধুলো জমবে পুরু হয়ে,
আমরা বাঁচবো বিচ্ছেদের ভার বয়ে।
হয়তো পাল্টে যাবে তোমার গলার স্বর,
আমরা দুজনেই হব দুজনের চেয়েও পর।
তবুও মনে থাকবে সেই একটি বাক্যের রেশ,
‘অনেকদিন দেখা হয়নি’- ফুরাবে না তার শেষ।
ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো ছিঁড়ে যাবে একে একে,
নিয়তি আমাদের রাখবে আড়ালে ঢেকে।
একদিন হয়তো বসন্ত আসবে কোনো এক ভোরে,
কেউ রবে না কারো জন্য অপেক্ষার ডোরে।
মহাকালের চাকা ঘোরে অবিরাম গতিতে,
আমরা তুচ্ছ হয়ে রব বিস্মৃত কোনো স্মৃতিতে।
তারপর একদিন আসবে সেই চূড়ান্ত লগ্ন,
যখন ভেঙে যাবে আমাদের সব স্বপ্ন-মগ্ন।
হয়তো কোনো এক লোক মারফত জানা যাবে,
অথবা অজানাই রবে এই বিশ্বের কলরবে-
যে তোমার সঙ্গে আমার আর কোনোদিন,
হবে না দেখা, শোধ হবে না কোনো ঋণ।
মর্ত্যের কোনো ধুলোমাখা রাজপথে,
কিংবা কোনো মায়াবী স্বপ্নের রথে-
আমরা আর আসব না কারো মুখোমুখি,
অসম্পূর্ণ গল্প নিয়েই হব চির-সুখী।
তোমার অস্তিত্ব মিশে যাবে নীল দিগন্তে,
আমি হারিয়ে যাবো জীবনের শেষান্তে।
মহাবিশ্বের বিশালতায় আমরা দুই বিন্দু,
ব্যবধান হয়ে রবে অতলান্ত এক সিন্ধু।
আমাদের শেষ কথাটি বাতাসে যাবে ভাসি,
বিলীন হবে সব কান্না আর সব হাসি।
তোমার ছায়া আর ছোঁবে না আমার মাটি,
বিচ্ছেদই হয়ে উঠবে পরম এক খাঁটি।
হয়তো অন্য কোনো গ্রহের নীল আলোয়,
আমরা মিশে যাবো চিরকালের ভালোয়।
তবে এই মর্ত্যে ফুরালো দেখার পালা,
হৃদয়ে রইল বিরহের এক তপ্ত মালা।
সমাপ্ত হলো সব পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা,
অদর্শনই হলো জীবনের শেষ শিক্ষা।