ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক ॥
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও চেয়ারে বসতে পারেনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন। ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ এর গাফিলতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন। আজ ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ভৈরব বাজারে প্রেসক্লাব হল রুমে সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান রিপন বলেন, গত বছর ২৬ মার্চ একটি মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় বিনা মামলায় পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে থানা ভাংচুরের মামলা দিয়ে কারগারে প্রেরণ করে। কারাগারে থাকা অবস্থায় আরো ৪টি মামলায় আমাকে শোন এরেস্ট দেখায়। এমতাবস্থায় আমি কারাগারে থাকা কালীন আমার পরিষদের সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) খুরশেদ আলম’কে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দায়িত্ব দেন। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকল মামলায় জামিন প্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে আসি। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর আমি স্ব-শরীরে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পত্র দ্বারা অবহিত করি এবং আমার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইডি প্রদান করার জন্য দরখাস্ত দেয়। কিন্তু এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কোন গুরুত্ব দেখতে পায়নি। কয়েকদিন পর জানতে পারলাম আমার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) খুরশেদ আলম ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আমার নামে মিথ্য একটি অভিযোগ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দাখিল করে। সে তাঁর দরখাস্তে আমাকে খুনি, গুলি বর্ষণকারী, সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে। তাঁর এই দরখাস্ত মন্ত্রণালয় আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর আমাকে নির্দোষ প্রমান করে পরিষদের কার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ডিসি মহোদয়কে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই চিঠির আলোকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর আমি বাধ্য হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে গিয়ে ২ এপ্রিল ৪ সপ্তাহের রোল জারি করে প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যক্রম স্থগিত করি। সেই সাথে আদালত আমাকে চেয়ারম্যানের কার্য সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে নির্দেশ প্রদান করে। ১৯ এপ্রিল ইউএনও অফিস হাইর্কোটের আদেশ পত্রটি গ্রহণ করে কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা থেকে আমার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইডি প্রদান না করার কারনে আমি পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। এই সুযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান বেআইনিভাবে এতদিন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই আইনের ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্ট থেকে উকিল নোটিশের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্যানেল চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়েও নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে অবগত করা হয়। কিন্তু তারা এই আইনের কোন রকম তোয়াক্কা করেনি।
প্যানেল চেয়ারম্যানের আনিত সকল মিথ্যা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এসময় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল মহোদয়সহ প্রশাসনের প্রতি শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের আশা ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন এর বড় ভাই জিল্লুর রহমান ভূইয়া। তিনি বলেন, যেহেতু আমার ভাই বহিষ্কৃত না, তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য এই সকল আদেশপত্রের কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যানে বাধার কারনে এবং প্রশাসনের অসহযোগিতায় পরিষদের কাজ করতে পারেনি। স্থানীয় সরকার আইনের ৩৩ এর ২ ধারায় উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতেই শুধু প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করতে পারবে। চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে সামর্থ্যবান হওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের কোনো প্রকার সুযোগ নেই। আমার ভাই একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান চেয়ারম্যান। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম বলেন, ২৭ মার্চ অন্তর্বতীকালীন সরকারের নির্দেশনায় চেয়রাম্যানের অনুপস্থিতিতে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। মিজানুর রহমান রিপন একাধিক মামলার আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আমাকে সরকার থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সরকার না চাইলে আমি দায়িত্ব থেকে সরে যাবো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ না বুঝে করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। প্যানেল চেয়ারম্যান প্রশাসনিক নিয়মেই দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে এই বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদেও দুইটি পক্ষ তৈরি হয়ে সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হয়েছিল। আমি অফিসিয়াল ভাবে যতটুকু পেরেছি করেছি। এখন হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিভাগীয় কমিশনার অফিস ও ডিসি অফিসের। আমি প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে ইউপি চেয়ারম্যানকে পরামর্শমূলক করণীয় ২৮ এপ্রিল চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি।