নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সঠিক সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে বিশ্বাসী। অতীতে ১৯৭৮ সালে আগত প্রায় ২ লাখ এবং ১৯৯২ সালে আসা আড়াই লাখ রোহিঙ্গার বড় অংশকে সফলভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে।
বর্তমান সরকারও একই ধারাবাহিকতায় কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যাতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বহুমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে সংকটের স্থায়ী সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াগুলোতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায় নৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। লিখিত ও মৌখিক শুনানি শেষ হয়েছে এবং একাধিক দেশ এতে অংশ নিয়েছে। শিগগিরই এ মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরাসরি মামলার পক্ষ না হলেও ওআইসি’র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং বাংলাদেশ এ তদন্তে প্রমাণসহ পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাও আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশ সহায়তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনায় দায়ের করা মামলায় মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।