নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশে জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে শক্তিশালী আইনগত কাঠামো এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাল নোট নির্মূলের লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জাতীয় সংসদে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি, সরবরাহ বা সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে জাল নোটের প্রচলন উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য উন্নত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত মানসম্মত নোট সরবরাহ নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে। সরকার নীতিগত ও প্রযুক্তিগত—উভয় দিক থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে পরামর্শক্রমে যেকোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন সিরিজের ব্যাংক নোট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, এসব নোটে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকর্মের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। খ্যাতিমান শিল্পীদের নকশায় তৈরি এই নোটগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা কমিটির সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে। পূর্বের তুলনায় নতুন নোটে উন্নত ও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নতুন নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অচল নোট প্রত্যাহারের হার বিবেচনায় রেখে নতুন নোট ছাপানো হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মুদ্রার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সব ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করবে।