রবিউল আলম স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার মদন উপজেলার দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন শুধু থৈ থৈ পানি আর কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। যে মাঠে কদিন আগেও সোনালি ধানের হাসিতে আগামীর স্বপ্ন বুনছিলেন কৃষক, আজ সেখানে কেবলই হাহাকার।
*হারভেস্টার যখন অচল, প্রকৃতি তখন বিরূপ*
আধুনিক কৃষির আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিত ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ দিয়ে ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। কিন্তু অতিবৃষ্টির ফলে জমি কাদায় একাকার হয়ে যাওয়ায় যান্ত্রিক এই দানবগুলো এখন অচল হয়ে পড়ে আছে। নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হারভেস্টার নামানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকের শেষ ভরসা এখন কেবলই হাতের কাঁচি।
যন্ত্র যখন হার মেনেছে, তখন প্রয়োজন ছিল একঝাঁক শ্রমিকের হাতের ছোঁয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এই সংকটকালে শ্রমিকের হাহাকার চরমে। স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের অভাব এবং বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক না আসায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গৃহস্থরা। অনেক কৃষককে দেখা যাচ্ছে পরিবারের নারী-শিশু নিয়ে কোমর সমান পানিতে নেমে আধা-পাকা ধান কাটতে।
মদনের কৃষকদের এই সংকট কেবল কয়েক বিঘা ধানের ক্ষতি নয়, এটি একটি জনপদের স্বপ্নভঙ্গের গল্প। প্রকৃতির এই রোষানল থেকে বাঁচতে এবং অবশিষ্ট ফসলটুকু ঘরে তুলতে এখন সরকারি সহযোগিতা আর জরুরি ভিত্তিতে কৃষি শ্রমিকের জোগান দেয়া সময়ের দাবি। নয়তো এই সোনালি ধানের সাথেই হয়তো সলিল সমাধি ঘটবে হাজারো কৃষক পরিবারের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের।