আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মে দিবসের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে হংকং থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে ভ্রমণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর ট্যুর গ্রুপ বুকিং প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো এবং বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতার কারণে চীনের মূল ভূখণ্ড এখন হংকংয়ের নাগরিকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ফলে অনেকেই এখন দূরবর্তী আন্তর্জাতিক গন্তব্যের পরিবর্তে কাছাকাছি শহরগুলোতে স্বল্প সময়ের ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
পর্যটন সংস্থা ইজিএল ট্যুরসের নির্বাহী পরিচালক স্টিভ হুয়েন কুয়োক-চুয়েন জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে বিশেষ করে গ্রেটার বে এরিয়া সংলগ্ন শহরগুলোতে পর্যটকের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তার ভাষায়, “অনেকেই এখন স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য কাছাকাছি গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী ইস্টার ছুটিতে অনেক পর্যটক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ভ্রমণ করায় এবার তুলনামূলকভাবে চীনের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের বুকিংও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষ করে ফোশান, ডংগুয়ান এবং ঝংশান শহরগুলো এখন হংকংয়ের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এসব শহরে এক থেকে তিন দিনের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ বেশি পছন্দ করা হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবণতার পেছনে শুধু বিমান ভাড়া বা জ্বালানি খরচ নয়, বরং নতুন অভিজ্ঞতা, সহজ যাতায়াত এবং উন্নত সেবাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চীনের আধুনিক রেল যোগাযোগ, সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং উন্নত পর্যটন সেবা ভ্রমণকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করেছে। ফলে হংকংয়ের পর্যটকদের কাছে মূল ভূখণ্ড এখন আরও গ্রহণযোগ্য গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মে দিবসের এই পর্যটন প্রবাহ শুধু ভ্রমণ খাতেই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। হোটেল, পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়তি চাহিদা ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট