আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুতে একটি সরকারি হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ধসে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাউরি অ্যান্ড লেডি কার্জন হাসপাতালের প্রায় ৮ ফুট উঁচু একটি দেয়াল হঠাৎ ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে এক শিশু এবং ফুটপাতে অবস্থান করা কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় হাসপাতালের দেয়ালঘেঁষা এলাকায় অনেকেই চলাচল করছিলেন। হঠাৎ করেই দেয়ালটি ধসে পড়লে তারা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শোকবার্তায় ঘটনাটিকে গভীরভাবে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের তীব্র গরমের পর হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে বুধবার শহরে প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই পুরনো ও দুর্বল দেয়ালটি ধসে পড়ে।
ঘটনার পরপরই দমকল ও উদ্ধারকারী দল অভিযান শুরু করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়াদের খোঁজ চালায়। প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরনো অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা তদারকি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।