আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি রেকর্ড।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে এই অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ বেশি কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্পের দাবি, অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি গুরুতর সংকটে পড়েছে এবং দেশটির পরিস্থিতি “শ্বাসরুদ্ধকর” অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে এই অবরোধ অব্যাহত রাখা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাকস সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংকট চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না থাকলে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া তারা কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় যাবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, নতুন সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ