মুমিনুল হকের লড়াকু সেঞ্চুরি সত্ত্বেও বাকি ব্যাটাররা তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে না পারায় আড়াইশর আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। অতি আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে লিড নিয়ে ভারত দেয় ইনিংস ঘোষণা। আবারো ব্যাটিংয়ে নামা সফরকারীরা হারিয়েছে একটি উইকেট। বৃষ্টিতে দুই দিন ভেসে গেলেও কানপুর টেস্টের পঞ্চম ও শেষদিন হার এড়াতে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানের জবাবে ভারত ৯ উইকেটে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে । ৫২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে অতিথিরা দুই উইকেটে ২৬ রান রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করে। ওপেনার সাদমান ইসলাম ৭ ও মুমিনুল হক শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।
সোমবার তিন উইকেটে ১০৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিন খেলতে নামে বাংলাদেশ। ধীরস্থির শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। দিনের ষষ্ঠ ওভারে বুমরাহর দারুণ ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন ১২ রান করা এ ব্যাটার।
সঙ্গী ফিরলেও দারুণ ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে এগোতে থাকেন মুমিনুল হক। অন্যপ্রান্তে লিটন দাস ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখালেও সিরাজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন। কভারে রোহিতের অবিশ্বাস্য ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১৩ রান করেন তিনি।
সাকিব আল হাসান তার সম্ভাব্য শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে যা করেছেন তাকে আত্মহত্যার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অশ্বিনকে আগের বলেই চার মেরেছিলেন। ঠিক পরের ডেলিভারি ফের উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৯ রানে আউট হন তিনি।
চতুর্থ দিন প্রথম সেশনের বাকি সময় নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন মুমিনুল ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এর মাঝে মুমিনুল পান ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ সেঞ্চুরির দেখা। অশ্বিনকে চার মেরে দেশের বাইরে দ্বিতীয় শতক পূরণ করেন এ ব্যাটার।
লাঞ্চ বিরতির পরই সাজঘরে ফেরেন মিরাজ। বুমরাহর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২০ রান করেন তিনি। এরপর টেইল এন্ডারদের কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৯ রানে শেষ চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন মুমিনুল। ভারতের হয়ে বুমরাহ তিনটি, মোহাম্মদ সিরাজ, আকাশ দীপ ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন দুটি করে এবং রবীন্দ্র জাদেজা একটি উইকেট শিকার করেন।
টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম দলীয় পঞ্চাশ, একশ, দেড়শ ও দুইশর পর এবার দ্রুততম দলীয় আড়াইশ রান তোলার বিশ্বরেকর্ডও টিম ইন্ডিয়ার দখলে গিয়েছে।মাত্র ৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পেরোয় স্বাগতিকরা। ১০.১ ওভারেই দলীয় একশ রানের দেখা পায়। এরপর ১৮.৩ ওভারে দ্রুততম দেড়শ রানের দেখা পায় রোহিত শর্মার দল। ২৪.২ ওভারে দলীয় সংগ্রহ দুইশ ছাড়িয়ে যায়। পরে ৩০.১ ওভারে দলটি দ্রুততম দলীয় আড়াইশ রান তোলে। এ সবগুলোই গড়েছে বিশ্বরেকর্ড।
ভারতের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে পাগলাটে শুরু করেন রোহিত শর্মা ও যশস্বী জসওয়াল। নিজের খেলা প্রথম দুই বলেই ছক্কা হাঁকান রোহিত। জসওয়ালও ছাড় দেননি। দুজনের ব্যাটে মাত্র ৩ ওভারে ৫১ রানে পৌঁছায় ভারত। যা টেস্ট ইতিহাসে দ্রুততম দলীয় ফিফটি।
রানের গতি আটকাতে চতুর্থ ওভারেই স্পিনার আনেন ক্যাপ্টেন শান্ত। ফলও মেলে দ্রুত। চার খেয়ে শুরু করলেও পঞ্চম বলেই রোহিতকে বোল্ড করেন মিরাজ। মাত্র ১১ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন ভারত অধিনায়ক।
রোহিত ফিরলেও আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকেন জসওয়াল। মাত্র ৩১ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন এ ওপেনার। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে যেকোনো ব্যাটারের দ্রুততম ফিফটি। সেঞ্চুরির পথে থাকা এ ব্যাটারকে ৭২ রানে বোল্ড করেন হাসান।
চা বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি ভারত। তবে বিরতি থেকে ফিরেই ৩৯ রান করা শুভমান গিলকে ফেরান হাসান মাহমুদ। রিশাভ পান্টকে ৯ রানের বেশি করতে দেননি সাকিব। তবে পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল। তাইজুলের বলে ২ রান নিয়ে ৩৩ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন রাহুল। পরের ওভারে সাকিবের বলে বোল্ড হন ৪৭ রান করা কোহলি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিংবদন্তি শচীন টেনডুলকারের একটি বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন তার স্বদেশি বিরাট কোহলি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ভারতের হয়ে কোহলি দ্রুততম ২৭ হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে ব্যাট করতে নামার আগে কোহলির রান ছিল, ২৬,৯৬৫ রান। ৩৫ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৪৭ রানের ইনিংস খেলে টিম ইন্ডিয়ার সাবেক অধিনায়ক শচীনকে ছাড়িয়ে যান।
পরিসংখ্যান বলছে, ৫৯৪তম ইনিংস খেলে ২৭ হাজার রান পূর্ণ করেছেন কিং কোহলি। এই রান তুলতে শচীন খেলেছিলেন ৬২৩ ইনিংস। শ্রীলংকার কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা ৬৪৮ ও অজি গ্রেট রিকি পন্টিং ৬৫০ ইনিংস খেলে এমন কীর্তি গড়েছিলেন।
মেহেদী হাসান মিরাজের ডেলিভারি খেলতে গিয়ে বল জাদেজার ব্যাটে লাগার পর প্যাডে আঘাত হানে। এরপর তা মাটিতে পড়ার আগে কভারে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর তালুবন্দি হলে ৮ রান করেই এই অলরাউন্ডারকে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন এক রান করা রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ৪৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রানের ইনিংস খেলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন লোকেশ রাহুল, তখনই ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।
খরুচে হলেও বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ ৪১ ও সাকিব ৭৮ রানে পান ৪ উইকেট। হাসান মাহমুদ পান একটি উইকেট।
শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের সূচনা ভালো হয়নি। ওপেনার জাকির হাসান ১০ রানে অশ্বিনের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন। পরে এই ভারতীয় অলরাউন্ডারের ডেলিভারিতে বোল্ড হন ৪ রান করা নাইটওয়াচ ম্যান হাসান মাহমুদ।