দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযানের নতুন ধাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। ইসরাইল এক বছরের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও লেবাননে যে বর্বর আগ্রাসন এবং গণহত্যা চালিয়ে আসছে তার জেরেই দখলদার রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযানে নামছে হিজবুল্লাহ ।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলবিরোধী লড়াইয়ের দ্বিতীয় ধাপ শুরুর এ ঘোষণা দেয় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠনটি। খবর তেহরানভিত্তিক পার্সটুডের।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরোধ যুদ্ধের সর্বোচ্চ কমান্ড থেকে দেয়া নির্দেশনার ভিত্তিতে ইসরাইলবিরোধী লড়াইয়ের দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন ধাপের লড়াই দৃশ্যমান হবে এবং এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ঘটনাগুলো দেখা যাবে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে তারা ইসরাইলের ১০ জন দখলদার সেনাকে হত্যা করেছে এবং ৯টি মার্কাভা ট্যাংক ও চারটি সামরিক বুলডোজার ধ্বংস করেছে। এর পাশাপাশি ১৫০ জনের বেশি দখলদার সেনা আহত হয়েছে।
এদিকে এবারই প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে গইডেড মিসাইল ব্যবহার করেছে হিজবুল্লাহ।
সংগঠনটির যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে অবস্থিত সামরিক অবস্থান এবং ব্যারাকগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আরও অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা শুরু হয়েছে যা দিয়ে ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে গেলো বছর ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এর জেরেই লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রায় দুই মাস ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।