শেষ হচ্ছে ফুটবলে কাজী সালাউদ্দিন অধ্যায়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর নতুন সভাপতি পাচ্ছে দেশের ফুটবল। রাত পেরোলেই ফুটবলের পালাবদলের নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন কাউন্সিলরা। যেখানে বাফুফে সাবেক সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়ালের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অচেনা’ মিজানুর রহমান। প্রার্থী থাকলেও এ পদে তাবিথের বিজয় অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়। এবারের নির্বাচনে ২১ পদের বিপরীতে ৪৬ জন প্রার্থী।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এরইমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন ইমরুল হাসান। চার সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী আছেন ৬ জন। ১৫টি সদস্য পদেই লড়ছেন ৩৭ জন। আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ১৩৩ জন কাউন্সিলরের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন নেতা পাবে দেশের ফুটবল। ২০০৮ থেকে টানা চার মেয়াদে বাফুফে সভাপতি ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। এবারও সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাবেক এই কিংবদন্তী ফুটবলার। তবে ৫ই আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি।
গত ১৫ই সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন সালাউদ্দিন। সালাউদ্দিনের সরে যাওয়ার ঘোষণার পরের দিন সভাপতি পদে নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানান তরফদার রুহুল আমিন। বাফুফের সাবেক সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ঘোষণার পর চুপসে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সভাপতি পদ বাদ দিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন কিনেন নানা কারণে বির্তকে জড়ানো তরফদার রুহুল আমিন। তবে শেষ পর্যন্ত এই পদেও তিনি নির্বাচন করছেন না। তরফদার সরে দাঁড়ানোর কারণে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান। অচেনা এক মিজানুর রহমানের কারণে সভাপতি পদে নির্বাচন হচ্ছে।
যদিও সভাপতি প্রার্থী হয়ে কারও কাছে ভোট চাননি দিনাজপুরের এই সাবেক ফুটবলার। তবে প্রার্থী থাকলেও সভাপতি পদে তাবিথের বিজয় নিশ্চিতই বলা যায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সহ-সভাপতি পদে। এখানে চার পদের বিপরীতে প্রার্থী ছয় জন। ২০১৬ সালের পর পুনরায় সহ-সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির। সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকও এই পদের আরেক প্রার্থী। দুই ফুটবলার বাদে বাকি চার সহ-সভাপতি প্রার্থীর ফুটবলাঙ্গনে সেভাবে পরিচিত নন।
এদের একজন লক্ষীপুর জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি (হ্যাপি)। তার বড় পরিচয় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরি অ্যানির বড় ভাই। ব্রাদার্স ইউনিয়নের সদস্য সচিব সাব্বির আহমেদ আরেফও সহ-সভাপতি প্রার্থী। ২০০১ পরবর্তী বিএনপি শাসনামলে তিনি ব্রাদার্সের সঙ্গে ছিলেন। এবার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্রাদার্স ইউনিয়নের সদস্য সচিবের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখন বাফুফে সহ-সভাপতি প্রার্থীও হয়েছেন। আরেক সহ-সভাপতি প্রার্থী ফাহাদ করিম ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত স্পোর্টস ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট ব্যবসায়ী হিসেবে।
ফুটবলের ট্যাকনিক্যাল জ্ঞান, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নেই। শুধু আর্থিক সামর্থ্যই তার সহ-সভাপতি প্রার্থিতার মূলে। সহ-সভাপতি পদে আরেক প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জামান জাহেদী। তারও ফুটবলের শীর্ষ স্তরে তেমন পরিচিতি নেই। যশোরে শামসুল হুদা একাডেমির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে তার একটা পরিচিতি রয়েছে। সদ্য বিলুপ্ত সংসদে ঝিনাইদাহ-২ আসনে সংদস সদস্য ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের পদও ছিল। দেশের শীর্ষ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান ও আর্থিক সক্ষমতা তার বড় শক্তি এবারের নির্বাচনে।
১৫টি সদস্যের বিপরীতে এবার লড়াই করছেন ৩৭ জন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এর মধ্যে নতুন মুখের সংখ্যাই বেশি। গত নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়া আটজন এবারও প্রার্থী হয়েছেন। বাকি ২৯ জনের মধ্যে বেশিরভাগ এবারই প্রথম ফুটবলের নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। প্রার্থীর মতো ভোটার তালিকায় নতুনের আধিক্য থাকায় একটা জমজমাট ভোটের লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
সদস্য পদে ফেভারিটের তালিকায় ওপরের দিকে থাকবে আমিরুল ইসলাম বাবুর নাম। পুরনোদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় এগিয়ে সত্যজিৎ দাশ রুপু। সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে জোর লড়াইয়ে আছেন বেশ কজন। সাবেক ফুটবলার খন্দকার রকিবুল ইসলাম, গোলাম গাউছ, ইকবাল হোসেন, গোলকিপার সাইদ হাসান কানন, সাইফুর রহমান মনিরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।