ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক:
দেড় যুগ পর প্রকাশ্যে এলো কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জামায়াতে ইসলামি সংগঠন। ১৮ বছর আগে আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ভৈরব উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে আজ মঙ্গলবার ২৯ অক্টোবর বিকাল ৩টা শহরের নিউটাউন মোড় ওয়াল্টন প্লাজার সামনে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ভৈরব উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে দলে দলে মিছিল মাধ্যমে সমাবেশ যোগদান করেন জামায়াতে ইসলামি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, ভৈরব পৌর শাখার আমির মো. শাহজাহান সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামি ভৈরব পৌর শাখার সেক্রেটারি মো. হাবিবুর রহমান মিঠু’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি কিশোরগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম, জেলা ইউনিট সদস্য মো. কামরুল ইসলাম ভৈরব উপজেলার আমির মাওলানা মো. কবির হোসাইন, সেক্রেটারি প্রভাষক মাওলানা মো. আব্দুল মতিন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ঢাকার বায়তুল মোকাররমে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার পর সেই লাশের ওপর নৃত্যের ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম নৃশংস ঘটনা। সেদিন থেকে কোনো রকম সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি জামায়াতে ইসলামি সংগঠন। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। এসময় কয়েকশত নেতা কর্মী আহত হয়েছে৷ এছাড়াও গত ১৫ বছর যাবত এদেশে একদলীয় শাসনের মাধ্যমে বাকশাল তৈরি করে অনেক জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের হত্যা ও গুম করেছে আওয়ামী লীগ সরকার৷ ২৮ অক্টোবরের আগের দিন এবং পরের দিনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ।
আলোচনা সভায় বক্তারা আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ধরে এনে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাজা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথি কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী বলেন, ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর বায়তুল মোকাররমের শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে নির্দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে। দেশের ছাত্র জনতা গণ অভ্যূত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর পর দেশের জনগন আজ আওয়ামী লীগকেই নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে।
এছাড়া তিনি বলেন, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশকে শাসন ও শোষণ করেছে। দুর্নীতির লুটপাটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্যর্থ দেশ বানিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত রক্ষীবাহিনী দিয়ে এ দেশের মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়ে ছিলো। এছাড়া মুজিব বাহিনী দিয়ে বাবার হাতে ছেলেকে খুন করিয়ে ছিলো। এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনৈতিক করার অধিকার নেই। বাংলার মানুষ আওয়ামী লীগকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছে।