ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক:
কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলেই ইতালি স্পন্সর ভিসা নিয়ে চলে যেত ইটালী। দুই সন্তানের জনক হারুনুর রশিদ সোহাগ (৪৫)। কাঁদতে কাঁদতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে কথাগুলো বলছিল সোহাগের বোন রুনা বেগম। আজ ১৭ নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুড়িকাঘাতে নিহত হয়েছেন হারুনুর রশিদ সোহাগ মিয়া। ঘটনাটি ঘটে উপজেলা শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর রেলগেইট ও পৌর শহরের শেষ সীমানা জগন্নাথপুর এলাকার শাকের হাজীর বাড়ির মোকামের সামনে। সোহাগ শম্ভুপুর রেলগেইট এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

এ দিকে অভিযোগটি উঠেছে শম্ভুপুর কান্দাপাড়া এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে জসিম মিয়া (৩৫) এর বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা পৌর শহরের শেষ প্রান্তে জগন্নাথপুর ও শম্ভুপুরের এলাকায় শাকের হাজীর মোকামের সামনে একটি চায়ের দোকানে তর্কবিতর্কে জড়ায় সোহাগ ও জসিম। এসময় জসিম মিয়া হঠাৎ পকেট থেকে সুইস গিয়ার বের করে সোহাগের বুকে আঘাত করে। এসময় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সোহাগকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিলে সেখান থেকে চিকিৎসক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের ছোট বোন রুনা বলেন, ইটালী যাবে বলে ভৈরব বাজারের ব্যবসা ছেড়ে বাড়িতে থাকেন ভাই সোহাগ। বর্তমানে কৃষি কাজে সময় দিচ্ছিলেন তিনি। পাঁচ বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই জনই থাকেন ইতালিতে। সোহাগ বাড়ির পাশে বিয়ে করে ছিলেন। হামজা ও তাসকিন নামে দুইজন শিশু সন্তান রয়েছে। ভাইযের ইটালী যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। পরিবারটি অসহায় হয়ে গেল। কি হবে স্ত্রী ও দুইটি এতিম সন্তানের। আমরা খুনি জসিমের কঠিন শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে শিবপুর ইউডি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপন মিয়া বলেন, ফোন পেয়ে দৌড়ে দেখি সোহাগের মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে। জেনেছি জসিম নামে এক বখাটে সোহাগকে ছুড়িকাঘাত করেছে। তুচ্ছ ঘটনায় তারা তর্কে জড়িয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী শিলা বেগম জানান, বাড়ির জানালা দিয়ে দেখেছি কে বা কারা তর্ক করছে। হঠাৎ শুনতে পায় কেউ একজন বলছে আমাকে বাঁচাও আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। দৌড়ে এসে দেখি সোহাগকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. মেহেদি হাসান বলেন, সন্ধ্যায় সোহাগকে নিয়ে আসে তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে আনার পর সোহাগকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সোহাগের বুকে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
ভৈরব থানার এসআই শাখাওয়াত জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ৮ টায় নিহতের লাশ থানায় নিয়ে আসে। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।