বার্সেলোনা কি আবার একই ভুল করতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। গত চার বছরে একের পর এক তরুণ প্রতিভা উঠে এসেছে বার্সেলোনায়। প্রতিভার ছটায় চমকে দিলেও ১৮ পেরোনোর আগেই এই তরুণদের বেশি খেলতে দিয়ে তাদের সবাইকে চোটের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
সে তালিকায় এখনো নাম ওঠেনি লামিন ইয়ামালের। কিন্তু মাত্র ১৭ বছরেই বিশ্ব ফুটবলে ছাপ ফেলে দেওয়া এই কিশোর চোট থেকে সেরে উঠতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছেন। তাতে জেগেছে শঙ্কা- আনসু ফাতির মতো ইয়ামালের ক্ষেত্রেও কি ভুল করছে বার্সেলোনা!
আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই চোট পেয়েছেন লামিন ইয়ামাল। বলা হয়েছিল অ্যাংকেলের চোটে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন। বিরতির আগে তাই রেয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। ধারণা করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বিরতি শেষেই বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা যাবে তাঁকে।
কিন্তু এখন জানা গেছে শনিবার সেলতা ভিগোর বিপক্ষেও ইয়ামালকে পাচ্ছে না বার্সেলোনা। দিয়ারিও এএস বলছে স্প্যানিশ উইঙ্গার এখনো একটু ব্যথা অনুভব করছেন অ্যাংকেলে, তাই বালাইদোসে তাঁকে দলের সঙ্গে দেখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এএস দাবি করছে বার্সা ড্রেসিংরুমের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘শনিবারের মধ্যে প্রস্তুত হওয়া কঠিন হবে।’ ধারণা করা হচ্ছে, শুধু শনিবারের ম্যাচ নয়, আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্রেস্তের বিপক্ষেও হয়তো নামতে পারবেন না ইয়ামাল। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩০ নভেম্বর লাস পালমাসের বিপক্ষে দেখা যাবে তাঁকে।
এদিকে গত কয়েক মৌসুম ধরে তরুণ ফুটবলারদের বেশি ম্যাচ খেলাতে বাধ্য হয়ে বার্সেলোনা ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদি চোটে পড়তে দেখেছে। শুরুটা হয়েছিল আনসু ফাতি ও পেদ্রিকে দিয়ে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল একাদশে জায়গা করে নেওয়া পেদ্রি এক মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে প্রায় সত্তরটি ম্যাচ খেলে এরপর থেকেই একের পর এক চোটে পড়ছেন।
আনসু ফাতি তো ‘নতুন মেসি’ তকমা পাওয়ার পর চোটাঘাতেই হারিয়ে গেছেন মূল একাদশ থেকে। পরে বার্সেলোনা থেকে চলে যেতেই বাধ্য হয়েছিলেন। এই মৌসুমে আবার দলে ফিরলেও আবার চোটে পড়েছেন দীর্ঘ সময়ের জন্য। পেদ্রির মতোই ১৭ বছর বয়সেই বার্সেলোনার মূল একাদশে স্থায়ী হওয়া আরেক মিডফিল্ডার গাভিও দীর্ঘমেয়াদি চোট কাটিয়ে মাত্র ফিরেছেন।
এখনো মাত্র ১৭ বছর হলেও স্পেনকে ইউরো জেতানোয় বড় ভূমিকা ছিল ইয়ামালের। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এরই মধ্যে প্রায় সত্তরটি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন এই কিশোর। তাই ওয়ার্কলোড ও চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
এমনিতে লিগে রেয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে আছে বলে ইয়ামালের অনুপস্থিতি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা না করলেও চলত কোচ হানসি ফ্লিককে। কিন্তু লিগে এখন পর্যন্ত যে দুটি ম্যাচে হেরেছে বার্সেলোনা, সে দুই ম্যাচেই অনুপস্থিত ছিলেন ইয়ামাল। এই মৌসুমে ১৬ ম্যাচেই ১৪টি গোলে অবদান রাখা ইয়ামালের অভাব তাই ভালোভাবেই টের পাবেন ফ্লিক।