নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম আমার ভোট আমি দিবো, আমি সুখে থাকবো, কোন বৈষম্য থাকবে না, সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে, বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত রেখে এমন একটি দেশ গড়বো যে দেশ সারা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে যে কলংক সৃষ্টি করেছে, যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে সকল ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুযোগটুকু নষ্ট করেছে। আজকে শেখ হাসিনা যে দেশে আশ্রয় নিয়েছে সেই হিন্দুস্তান ভারত- আজকে আমরা অস্বীকার করিনা আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সহযোগিতার নামে যদি বাংলাদেশকে দখল করার কোন স্বপ্ন আমনাদের থাকে, সেই স্বপ্ন আপনাদের কখনোই সফল হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় আগ্রাসন, অপপ্রচার ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনারে হামলা করে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যে অসন্মান করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আপনার কথা বাংলাদেশের মানুষকে যে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন, বাংলাদেশে যে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা লাগাবার প্রক্রিয়া করেছেন- বাংলাদেশের জনগণ মতে করে ৫ আগস্টের পরে যদি শেখ হাসিনা এই মোদির পদতলে আশ্রয় না নিতো তাহলে এই ঘটনাগুলো ঘটতো না। এই ঘটনার মূল শক্তি হলো শেখ হাসিনা। সে এই সরকারকে অস্থিতিশীল করছে। সে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল; আবার যখন বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার রক্ত দেয়া সরকার এসেছে যারা বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরন করবে সেই মূহুর্তে বাংলাদেশে চিন্ময়ের পক্ষ অবলম্বন করে মানুষের প্রতি আপনি যেভানে আচরণ করছেন স্বাধীন দেশ হিসেবে সেটা আপনার করা উচিত ছিলো না।
তিনি বলেন, আমরাও স্বাধীন, আমরাও স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আপনি যদি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে আমাদের ভূখণ্ড নিয়ে, আমাদের অধিকার নিয়ে, আমাদের গণতন্ত্র নিয়ে, সংবিধান নিয়ে কথা বলেন তাহলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ একেকজন সৈনিক সেটার প্রতিবাদ করবে; সেটার প্রমান আপনারা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল সেদিন ড. ইউনূসকে ওয়াদা করে এসেছি আমরা আছি আমরা থাকবো আপনার পাশে। হাসিনার প্রেত্মাতারা আর কোনোদিনও বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র করতে পারবে না। আমরা আজকে বলতে চাই আমাদের ইউনিটি আর কোনোদিনও ভাঙতে পারবেন না শেখ হাসিনা এবং ভারত। ভারত যদি আপনি আপনার কথা এখনো সরিয়ে না নেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আপনার সন্মান প্রদর্শন না করান তাহলে মাওলানা ভাসানীর কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ১৮ কোটি মানুষ প্রস্তুত আছে লং মার্চ করে আপনাদের বিরুদ্ধে আবার আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। তাই অনুরোধ করব বাংলাদেশ নিয়ে আর নাক গলাবেন না।
শেখ হাসিনা যদি তুমি আরও ১০০ বারও জন্মগ্রহণ করে আসো তাও আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
ফারুক বলেন, সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আল্লাহতায়ালা এখনো খালেদা জিয়াকে জীবিত রেখেছে। তাই বলতে চাই বিএনপিকে আন্ডারস্টিমেট করবেন না। বিএনপিকে আপনারা মাইনাস টু এর দিকে নিয়ে যাবেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ রইলো আর বিলম্ব নয়; এইসকল ষড়যন্ত্র রুখতে হলে জনপ্রতিনিধি দরকার। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে। সময়তো আমরা দিয়েছি, সময় আরও দিতে চাই। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যেনো আওয়ামী লীগের লোকেরা ষড়যন্ত্র করতে না পারে। এদেরকে উৎখাত করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ড. ইউনূস আমরা আপনার সাথে আছি আমরা থাকবো। তবে দাবি একটাই আমার স্বচ্ছভাবে ভোট আমি দিতে পারি এমন একটা নির্বাচনের তারিখ অবিলম্বে ঘোষণা করুন।
বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জল হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহ, প্রিন্সিপাল শাহ মোঃ নেছারুল হক, তাতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ডঃ কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি, বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলী মিঠু, শফিকুল ইসলাম সবুজ, তোফায়েল হোসেন মৃধা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসা ফরাজী সহ প্রমুখ।