স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুরে কাটা হচ্ছে একের পর এক সরকারি গাছ। অভিযোগ উঠেছে, অনুমতি বা ছাড়পত্র কিংবা নিয়মনীতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব গাছ কেটে নিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিনের ব্যবধানে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ২ নং ও ৪নং ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি সরকারি গাছ অনুমতি বা চাড়পত্র ছাড়াই কেটে পেলেছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। স্থানীয়রা বলছেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় কাটা হচ্ছে একের পর এক সরকারি গাছ।
সাম্প্রতি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে গাছ কাটা নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় ‘‘সরকারি গাছ কেটে বেকায়দায় বিএনপি নেতা’’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাছগুলো আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু যে বা যারা গাছগুলো কর্তন করছে তাদেরকে আইনের আওতায় না আনায়
তারা বা তাদের দেখা দেখি অন্য কেউ একই অপরাধ পুনরায় করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক আইনের প্রয়োগ না করায় অপরাধীরা এভাবেই অপরাধ করে চলছে।
একই ভাবে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারী) শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে সড়কের পাশের গাছ কাটার অভিয়োগ উঠেছে। জানা যায়, বিএনপির নেতা কবির হোসেন সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তার (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটেছেন।
সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ও শুনা যায়, এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অধীন কুমারডুগী মাজার গেইট সড়কের শুক্কুর গাজীর বাড়ির সামনে দুই ধাপে প্রায় ৭ থেকে ৮টি মেহগনি গাছ কাটা হয়েছে। গাছের গোড়ার পাশে খণ্ড খণ্ড গাছের টুকরা পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, সড়কের পাশের জমির মালিক আমিনুল হক (মোহন) খন্দকারের নির্দেশে দিনের বেলায় লোকজন দিয়ে গাছগুলো ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন কেটেছেন। কাটা গাছের কয়েকটি অংশ আমিনুল হক (মোহন) খন্দকারের ভাতিজা মুরাদ খন্দকার তাদের বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি (সাবেক চেয়ারম্যান) স্বপন মাহমুদের অনুমতি ক্রমেই গাছ কেটেছি।
বিএনপির সভাপতি (সাবেক চেয়ারম্যান) স্বপন মাহমুদ বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানানেই। যদি কেউ আমার নাম ব্যবহার করে গাছ কেটে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলবো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আল এমরান খাঁন বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সেখানে ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে কাটা গাছগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।