নিউজ ডেস্ক :
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বছর দেড়েক আগে ঢাকায় এসেছিলেন রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম বাঙ্গালহালিয়া কলেজ এলাকার শিক্ষক পিতা উসাইমং মারমার একমাত্র সন্তান উক্য চিং মারমা। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিমিষেই নিভে গেল সেই স্বপ্নের প্রদীপ।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে গুরুতর দগ্ধ হন এই তরুণ শিক্ষার্থী। শরীরের শতভাগ পুড়ে যাওয়ায় তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রাত ২টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উক্য চিংয়ের মরদেহ পৌঁছায় তার নিজ গ্রামের বাড়িতে। তখনই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসী। পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। বহু মানুষ ছুটে আসেন তাকে শেষবারের মতো দেখতে।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর পিতা উসাইমং মারমা বলেন,
“সকাল নয়টায় ঢাকায় ছেলের মরদেহ বুঝে নিয়ে গ্রামে রওনা দিই। কত স্বপ্ন নিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠালাম! আজ সব শেষ হয়ে গেল। আগামীকাল সকাল নয়টায় পারিবারিক শ্মশানে তার সৎকার করব।”
নাতির মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার দাদু কংহলাপ্রু মারমা (৭৫)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“উক্য চিং খুব মেধাবী ও ভদ্র ছেলে ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় গিয়েছিল, কিন্তু ফিরলো লাশ হয়ে। বিশ্বাসই হচ্ছে না।”
পুরনো ছবি জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছেন দাদি ক্রাপ্রুমা মারমা (৬৫)। বলেন, “ছোটবেলায় কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। কত দুষ্টুমি করতো! ভাবিনি নাতির মরদেহ দেখতে হবে। পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল আমার উক্য চিং।”
উক্য চিংয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, এলাকা ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা কেবল একটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, ভেঙে দিয়েছে এক পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।