নিজস্ব প্রতিনিধি :
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন। তারা একে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের হামলা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে উৎসাহিত করে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ঘটনাকে ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও প্রকাশ্যে নাম প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি ও নারীপক্ষের পক্ষ থেকেও বলা হয়, দেশব্যাপী মবতন্ত্র ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার ধারাবাহিকতা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন ভুয়া অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে হামলা করা হচ্ছে, যা নিছক দমন-পীড়নের বহিঃপ্রকাশ।
আসক এক বিবৃতিতে জানায়, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কিশোরের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা একটি সম্প্রদায়ের ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও উদ্বেগজনক।
এইচআরএসএস বলেছে, সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় সরকারের দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রয়োজন। নারীপক্ষ ও ছাত্র ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, এ ধরনের হামলা পূর্বেও ঘটেছে, কিন্তু সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতায় সংখ্যালঘুরা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।