স্পোর্টস ডেস্ক :
চোখ ধাঁধানো আয়োজন, ঝলমলে আলো, সিডনির টাউন হলে জমকালো ড্র অনুষ্ঠান কিন্তু সেখানে ছিলেন না বাংলাদেশের কেউই। তবু ড্রয়ের মঞ্চে উঠে এলো বাংলাদেশের নাম। ভারতের ফুটবলার সানজিতা বাসফো যখন চার নম্বর পট থেকে কাগজ তুললেন, তখনই জানা গেল—চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ‘বি’ গ্রুপে লড়বে আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণারা।
২০২৬ সালের নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপপর্বে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লাল-সবুজের মেয়েদের জন্য। আগামী ৩ মার্চ ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৬ মার্চ একই শহরে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে দলটি। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ পার্থের রেক্টেঙ্গুলার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।
র্যাঙ্কিং অনুসারে পটে ভাগ হয়েছিল দলগুলো। ১২৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ছিল শেষ পটে—১২ দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে। অন্য কোনো দলের অবস্থান একশর নিচে নয়। এমন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ‘ডেথ গ্রুপে’ পড়াটা ছিল অনুমেয়ই। তবে তুলনামূলকভাবে ৫১তম অবস্থানে থাকা উজবেকিস্তানকেই টার্গেট করে এগোতে চায় বাঘিনিরা।
এশিয়ান কাপে আগেও পাঁচবার খেলা হয়েছে উজবেকিস্তানের, তবে বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকে তাদের পা রাখার সুযোগ হয়নি কখনও। তাই বাংলাদেশের জন্য এটিই সবচেয়ে বাস্তব প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক, আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ কোচ বলেন, ‘গ্রুপটা কঠিন, কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। ১২ মাস আগে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ভালো খেলেছিলাম। তখন থেকে দল অনেকটা উন্নতি করেছে। আমরা আগের চেয়ে শক্তিশালী।’
চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ যে সহজ হবে না, তা ভালো করেই জানেন বাটলার। তবু তিনি আশাবাদী, ‘সবকিছুই সম্ভব। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেব। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করে ভালো ছাপ রেখে আসা।’
প্রতিযোগিতার আগে দলকে ম্যাচ ফিট রাখতে প্রস্তুতি ম্যাচও চায় কোচ, ‘আমি বলতে পারি, সৌদি আরবে খেলতে চাই কিংবা অন্য কোথাও। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার হাতে নেই। প্রস্তুতির জন্য কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ জরুরি।’
চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শুরু, তার পর উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, মাঠে নামার আগেই বড় চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু স্বপ্নের পথ সহজ হয় না কখনও। তাই তো এই চ্যালেঞ্জে লড়াই করতেই প্রস্তুত লাল-সবুজ শিবির।