সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বেকাটারী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ ও তার স্বামীর উপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবার ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ উম্মে কুলছুম (৪৮)। হামলায় তার স্বামী মোঃ শাহা আলম বাদশা (৫০) গুরুতরভাবে আহত হয়ে বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী উম্মে কুলছুম জানান, তারা সম্প্রতি ৩ শতক আবাদি জমি ভাগিনা মোঃ মাজেদুল ইসলামের নিকট বিক্রি করেন। যদিও সম্পূর্ণ টাকা এখনো বুঝে পাননি, তবে পূর্বশর্ত ছিল—পুরো টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত জমিতে হালচাষ করা যাবে না। কিন্তু প্রতিবেশী আসামী মোঃ জালাল মিয়া, মোঃ ইয়াজল হক, মোছাঃ মৌসুমী বেগমসহ ছয়জন নামীয় ও আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মিলে ওই জমিতে জোরপূর্বক হালচাষ করতে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৮ জুলাই সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে আসামীরা পরিকল্পিতভাবে দণ্ডনীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়ির সংলগ্ন রাস্তায় অনধিকার প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উম্মে কুলছুম ও তার স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে।
অভিযোগে বলা হয়, আসামী ইয়াজল হক প্রথমে গলায় চেপে ধরার নির্দেশ দিলে জালাল মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে শাহা আলমের মাথা ও বাম হাতে একাধিক জায়গায় আঘাত করে। মমিন মিয়া ও ইয়াজল হক লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ইয়াজল হক বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরলে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এমন সময় উম্মে কুলছুম জীবন ঝুঁকি নিয়ে স্বামীকে রক্ষা করেন।
তাকে রক্ষা করতে গিয়ে উম্মে কুলছুম নিজেও হামলার শিকার হন। আসামী জালাল মিয়া তার কাপড় ধরে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং মৌসুমী বেগম তার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ৮০,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয়।
আসামীদের মারধরের সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশী আলা মিয়া, নূর আলম, রওশনারা বেগম, মাহাবুর রহমান, আবেদ আলীসহ আরও অনেকেই ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত শাহা আলমকে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উম্মে কুলছুম সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে ছয়জনকে নামীয় ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ প্রমাণ পেলে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।