ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় নানা অভিযোগ ও বিতর্কের কারণে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) টেলিভিশন ঠিকানা টিভি’র একটি টকশোতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “ফারুক আহমেদের মনোযোগ ক্রিকেট উন্নয়নের চেয়ে আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কৌশল ও বিজনেস পরিচালনায় বেশি ছিল। ফলে বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার পদ চলতে পারেনি। গত বিপিএল আয়োজনের অগোছালো পরিস্থিতিও তার অব্যাহতির একটি বড় কারণ।”
তিনি আরও বলেন, “ফারুককে আমরা ক্রিকেট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্বে এনেছিলাম। এনএসসির কোটায় তাকে পরিচালক করা হয়েছিল, পরে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু বোর্ডের ৮ জন ডিরেক্টর মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করেছেন। বিপিএল আয়োজনের সময় রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের অদক্ষতার কারণে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
সজীব ভূঁইয়া জানান, মন্ত্রণালয় একটি অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নতুন একজনকে বিসিবি সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গঠনতন্ত্রের বাইরে কিছুই করি নি। ক্রিকেটের স্বার্থেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।”
ফলস্বরূপ, দেশের ক্রিকেট উন্নয়নের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই পদক্ষেপ ক্রীড়া মহলে স্বাগত ও সমর্থন পেয়েছে।