এস. এম. রু তাড়াশী, স্টাফ রিপোর্টার:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভয়াবহ বন্যায় হাজার বিঘার বিস্তীর্ণ গোচারণভূমি ও চাষের জমি ডুবে গেছে পানির স্রোতে। ফলে নিঃশেষ হয়ে গেছে সবুজ ঘাস ও প্রাকৃতিক গোখাদ্যের ভাণ্ডার। প্রাণিসম্পদ রক্ষার্থে এখন নির্ভর করতে হচ্ছে খৈল, ভুসি ও প্যাকেটজাত খাদ্যের ওপর। কিন্তু এই খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পশুপালনে সৃষ্টি করেছে নানামুখী সংকট।
খামারিদের অভিযোগ, বন্যার শুরুতেই খৈল, ভুসি ও প্যাকেটজাত গোখাদ্যের প্রতি বস্তার দাম ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বেড়েছে প্রতিপালন ব্যয়, অথচ কমেছে দুধ উৎপাদন। প্রাকৃতিক ঘাস না থাকায় পশু পাচ্ছে না পর্যাপ্ত পুষ্টি, আর খামারের সংকীর্ণ স্থানে গাদাগাদি করে রাখায় বাড়ছে রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব। খুরা, তড়কা, ম্যাসটাইটিসসহ ভাইরাসজনিত নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। এই পরিস্থিতি গোখামারিদের ঠেলে দিয়েছে চরম লোকসানের দিকে।
চক জয় কৃষ্ণপুর গ্রামের খামারি ইসমাইল হোসেনের বেদনার স্বর, “এখন গরু বিক্রি করেও খাদ্যের দাম উঠে আসে না। লাভ তো দূরের কথা, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।”
একই সুর নওগাঁ ইউনিয়নের আজাদ আকন্দ, শরিফুল আকন্দ ও লতিফ প্রাংয়ের কণ্ঠে- “গরু যদি বাথানে থাকত, সবুজ ঘাস খেত, বেশি দুধ দিত। বাঁধ ভেঙে সব বাথান পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘাস নেই, দুধ কমছে, গরু অসুস্থ হচ্ছে প্রতিদিন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা নিরলস কাজ করছেন। তিনি বলেন, “পশু যেন নিরাপদ থাকে, সেজন্য খামারিদের টিকা, কৃমিনাশক ও সেবামূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।”
অতএব, তাড়াশের বন্যাকবলিত পশুপালন আজ যেন এক দুঃসহ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্ভোগের ভার বহন করছেন খামারিরা, আর অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের প্রাণপ্রিয় গবাদিপশু।