মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ-১ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি বহু বছর ধরে বড় দুই দলের প্রভাবাধীন থাকলেও এবার নতুন শক্তির উত্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তৃণমূল মানুষের আস্থা অর্জন করে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন।
ভররা গ্রামের এই নীরব কর্মী অনেক বছর ধরেই প্রচারবিমুখভাবে মানবসেবামূলক কাজের জন্য পরিচিত। অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূলে “সাদা মনের মানুষ” হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। স্থানীয়রা তাকে “হাতীম তাই”-এর সঙ্গে তুলনা করেন তার নীরব দানশীলতা ও সমাজসেবার জন্য।
ইলিয়াছ হোসাইন শুধু মানবসেবায় নয়, সংগঠনগত কাজেও সক্রিয়। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা গণ অধিকার পরিষদের সহসভাপতি, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের সৌদি আরব শাখার সমন্বয়ক ও দাম্মাম শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
করোনার সময় তিনি সৌদি আরব থেকে নিজ এলাকায় ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। মানবিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন ফাউন্ডেশন’।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন ইলিয়াছ হোসাইন। তার স্লোগান—
“জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের অঙ্গিকার দেশ হবে জনতার।”
তরুণ, কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রবাসী পরিবারগুলো তার প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে।
ঘিওরের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে ভোটের পর কেউ খোঁজ নিত না। ইলিয়াছ ভাই নিয়মিত আমাদের পাশে থাকেন।”
শিবালয়ের উদ্যোক্তা রুবিনা আক্তার জানান, “তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে তার পরিকল্পনা আমাদের আশাবাদী করছে।”
দৌলতপুরের প্রবাসী পরিবারের সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, “বিদেশে থাকা মানুষের অধিকার নিয়ে তিনি সবসময় সোচ্চার। তার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গণ অধিকার পরিষদ নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জায়গা তৈরির চেষ্টা করছে। প্রথম ধাপে ঘোষিত ৩৬টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ইলিয়াছ হোসাইনের উত্থান সেই প্রক্রিয়ার অংশ। যদি তিনি তরুণ, প্রবাসী পরিবার ও কৃষক-শ্রমিক শ্রেণির আস্থা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ঐতিহ্যগত দুই দলের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইলিয়াছ হোসাইন বলেন—
“আমার কাছে রাজনীতি ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, মানুষের সেবা করার সুযোগ। তৃণমূল মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”
মানিকগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক মাঠে তাই এখন পরিষ্কার—বড় দলের ঘাঁটিতে নীরবে শক্ত ভিত গড়ে তুলছেন নতুন এক নেতৃত্ব: মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন।