অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সদর দপ্তর এবং দেশটির প্রথম বিভাগের কয়েকটি বড় ফুটবল ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এক বিচারকের নির্দেশে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) একযোগে এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুয়েনস এইরেসের দক্ষিণে এএফএ’র সদর দপ্তর, জাতীয় দলের অনুশীলন মাঠ এবং প্রথম বিভাগের রেসিং ক্লাব, সান লরেঞ্জো, ইন্দিপেন্দিয়েন্তে ও ব্যানফিল্ডসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে,‘এখন পর্যন্ত দলগুলো এবং ব্যক্তিগত বাসায় ২৫ থেকে ৩০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।’ তদন্তকারীরা মূলত এমন সব হিসাব-নিকাশের তথ্য খুঁজছিলেন, যা ‘সুর ফিনাঞ্জাস’ নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি দলের স্পন্সর হিসেবে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এখন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক তদন্তাধীন ক্লাবগুলোর ব্যাংকিং গোপনীয়তাও বাতিল করেছেন।
গত মাসে আর্জেন্টিনার কর কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি আর্জেন্টাইন পেসো কর ফাঁকির অভিযোগ দায়ের করেছিল। এছাড়া সুর ফিনাঞ্জাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিয়েল ভ্যালেজো এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। সুর ফিনাঞ্জাস গত বছর আর্জেন্টাইন ফুটবল লিগ এবং জাতীয় দলের স্পন্সরও ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্লাবগুলোকে ঋণ দেয়ার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচারস্বত্বের সুবিধা পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের শিকার হওয়া ক্লাব আতলেটিকো এক্সকুশিনিস্তাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি সাধারণ স্পন্সরশিপ চুক্তি ছাড়া তাদের আর কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের সঙ্গে তাপিয়ার টানাপড়েন চলছে। মিলেই সরকার দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোকে খেলাধুলার কোম্পানিতে রূপান্তর করতে চায়, কিন্তু এএফএ’র নিয়মে তার অনুমোদন নেই।