হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
কালো বাজারে বিক্রয় ও অধিক মুনাফার আশায় পর্যাপ্ত মজুদ না থাকাকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা, বিক্রি বন্ধ ও সীমিত করার কারণে জন ভোগান্তিতে ফুসে উঠছিল মানুষ। যে কারণে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ফিলিং স্টেশন গুলোতে পেট্রোল বিতরনের সময় প্রশাসনিক কড়া নজরদারি ও হস্তক্ষেপের কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত ,বন্ধের কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেল না পাওয়া গেলেও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এবং বাসা বাড়িতে কালোবাজার থেকে কেনা পেট্রোল, ডিজেল, অক্টেন চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার (কালিগঞ্জ- আশাশুনি) আসনের সংসদ সদস্য আকস্মিকভাবে তেল পাম্প গুলো পরিদর্শনে মাঠে নামেন। ওই সময় তার সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম খান ছাড়াও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সাথে ছিলেন। ওই সময় কালীগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত পেট্রোল মজুদ থাকার পরেও ক্রেতাদের মাঝে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, জনদুর্ভোগ চালিয়ে আসায় প্রথমবারের মতো হুঁশিয়ারি দিয়ে সতর্ক করেন। পরবর্তীতে এমন কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হলে ওই পাম্প সিলগালা সহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জনসম্মুখে ঘোষণা দেন। ওই সময় লুকানো মজুদকৃত পেট্রোল গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী স্টার ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন যাবত তেল সংকটের কারণে সারারাত ধরে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে মোটরসাইকেল চালকরা এবং গাড়ির মালিকরা রাত জেগে লাইন দিয়ে চাতক পাখির মত অপেক্ষায় থাকে কখন পাম্পে তেল ভর্তি গাড়ি ঢুকবে । অনেকেই রাত দিন অপেক্ষা করেও শেষ অব্দি কোন ভাগ্যেবান ব্যক্তির ভাগ্যে ১০০ টাকার তেল জুটলেও অনেককে নিরাশ হয়ে যেতে দেখা গেছে। আবার অনেকে চোরাই পথে বেশি তেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে বিশেষ করে তেল সংকটের কারণে তেল সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে পুনরায় আবার লাইনে দাঁড়ানোর অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বিরাজ করতে থাকবে বলে স্টেশন মালিক গুলো এমন ও অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পারুলগাছা নামক স্থানে এক ব্যক্তির তেলের দোকানে হানা দিয়ে ১৩ ব্যারেল পেট্রোল এবং ১ ব্যারেল অকটেন ২/৩,শ টাকায় লিটার বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই সময় ওই তেল ফেরত এনে গ্রাহকদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হয়। এইভাবে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন হাটবাজারে কালোবাজার থেকে কিনে তেল সেন্টিকেট গুলো চড়া দামে অধিক মুনাফার আসায় বিক্রি করে আসছে। যে কারণে ভোগান্তি কমাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ির হেলমেট ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে তেল সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।