আক্তার হোসেন, সিলেট থেকে
দীর্ঘ এক শতাব্দীর অন্ধকার ঠেলে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে সিলেট সদর উপজেলার ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের লামা আকিলপুর (ভূলতা) এলাকার। ২৮ মার্চ শনিবার সকাল থেকে এই কাজটি করা হয়েছে, রাস্তার অভাবে দুটি বাড়ির কয়েকশ মানুষ দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর ধরে কার্যত অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছিলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের উদ্যোগে আজ সেই স্বপ্নের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে এই এলাকার মানুষ যাতায়াতের নূন্যতম সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। একটি রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো । বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাত।
এলাকাবাসী জানান, উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। তবে জনস্বার্থের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাজয় ঘটেছে চক্রান্তকারীদের। আজ রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।
এই অসাধ্য সাধনে জমি দিয়ে মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লামা আকিলপুর তালুকপাড়ার বাসিন্দা ও ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আশিক মিয়া এবং হাজী আখলাক আহমদের পরিবার বর্গ । তাঁদের এই ত্যাগের কারণেই কয়েকশ মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
এই জনহিতকর কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় এলাকাবাসী সিলেট সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং
সিলেটের এসিলেন্ড (ভূমি) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জমি দাতা আশিক মিয়া ও আখলাক আহমদ পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এই রাস্তাটি নির্মাণের ফলে শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এসময় কাজ শেষে সরেজমিনে পরিদর্শন এসে সিলেটের ভূমি অফিসার (এসিলেন্ড) সরকার মামুনুর রশীদ জানান, কাজ টি খুব ভালো ও সুন্দর হয়েছে, রাস্থার জন্য যা যা প্রয়োজন সব করা হবে৷